মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বাণিজ্য নিরাপত্তা ও শক্তি প্রয়োগে ট্রাম্পের আক্রমণাত্মক কৌশল

২০২৬ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পের আন্তর্জাতিক কূটনীতি কেমন হবে, তা আগেভাগেই বলা কঠিন। তার কৌশল প্রায়শই অনিশ্চিত এবং অপ্রত্যাশিত সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয়। হঠাৎ হুমকি, বড় প্রলোভন দেখানো বা আকস্মিক সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের ক্ষমতা তাকে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে সুবিধা আদায় করতে সহায়তা করেছে।

অনেক দেশ মার্কিন বাজারে প্রবেশাধিকার হারানোর আশঙ্কায় অসম বাণিজ্য শুল্ক গ্রহণ করেছে। ইউরোপের গুরুত্বপূর্ণ মিত্রদের পাশাপাশি জাপান, তাইওয়ান ও অন্যান্য এশিয়ান অংশীদাররা নিরাপত্তার উদ্বেগে প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়েছে। এমনকি ইসরায়েল ও হামাসও চাপের মুখে যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে। ট্রাম্পের দাবি, আফ্রিকা থেকে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পর্যন্ত তিনি আট মাসে আটটি যুদ্ধ বন্ধ করেছেন এবং ভারতের সঙ্গে পাকিস্তানের সম্ভাব্য সংঘাতও প্রতিরোধ করেছেন।

ট্রাম্প প্রায়শই নিজের সিদ্ধান্তের অসংগতিকে কৌশলের অংশ হিসেবে উপস্থাপন করেন। ২০১৬ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় তিনি বলেছিলেন, “আমাদের অনিশ্চিত হতে হবে,” এবং প্রেসিডেন্সির দুই মেয়াদে সেই প্রতিশ্রুতি কার্যকর রেখেছেন। তার কোনো স্থায়ী নীতি বা নির্দিষ্ট কৌশল রয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি তার ইচ্ছানুযায়ী পরিবর্তিত হয়।

কিছু প্রবণতা স্পষ্ট। ট্রাম্পের মতে, আমেরিকা এককভাবে শক্তিশালী এবং বিশ্বের অন্য দেশগুলোকে তিনি একটি কৌশলের অংশ হিসেবে ব্যবহার করেন। বাণিজ্য ঘাটতি তার দৃষ্টিতে ভর্তুকি, যা শুল্কের মাধ্যমে সমাধানযোগ্য। গুরুত্বপূর্ণ প্রাকৃতিক সম্পদ যেমন তেল, গ্যাস ও খনিজের দখল নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজনে আঞ্চলিক নিয়ন্ত্রণও তার নীতির অংশ। তার মতে, স্বল্পমেয়াদি ও আকস্মিক শক্তি ব্যবহার প্রতিপক্ষকে ভারসাম্যহীন করে তোলে।

২০২৬ সালে মার্কিন সেনা উপস্থিতি ইউরোপ, এশিয়া ও মধ্যপ্রাচ্যে কমতে পারে। যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিশেষ সুবিধা বা বিতাড়িত অভিবাসীদের গ্রহণের মাধ্যমে দেশগুলো ট্রাম্পের সদিচ্ছা পেতে পারে; অন্যথায়, ঘনিষ্ঠদের বিরক্তি শত্রুতা তৈরি করতে পারে।

ট্রাম্পের রাশিয়ার প্রতি দীর্ঘদিনের সহানুভূতি নতুন নয়। তবে তিনি এখন চীনের বাজার ও বিরল খনিজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নির্ভরতারও গুরুত্ব বুঝতে শুরু করেছেন।

২০২৫ সালে ট্রাম্পের অনিশ্চয়তার কৌশল কিছু লাভ দিচ্ছে, কিন্তু ২০২৬ সালে তার নেতিবাচক প্রভাবও স্পষ্ট হতে পারে। ইউক্রেন যুদ্ধ তার প্রথম বছরে বন্ধ হতে নাও পারে। রাশিয়ার নেতা চীনের সঙ্গে সম্পর্ককে যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন। বড় সংকট না ঘটা পর্যন্ত ট্রাম্প হয়তো বুঝবেন না, মিত্রদের আসল প্রয়োজন কতটা।

প্রধান প্রশ্ন থেকে যায়, তীব্র অপমান ও চাপ সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্রের মিত্ররা পাশে থাকবে কি না। ইউরোপ রাশিয়ার প্রভাবকে, এশিয়া চীনের প্রভাবকে ঘেঁষে আগ্রহী হলেও সহযোগিতা সাধারণত অনিচ্ছাকৃত হবে। ব্রাজিল ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশকেও কঠোর নিষেধাজ্ঞার মুখে ফেলেছেন ট্রাম্প, যদিও দীর্ঘদিন তাদের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব বাড়ানোর চেষ্টা চলছিল। আফ্রিকা ও অন্যান্য দরিদ্র দেশগুলো জাতিসংঘে সংখ্যাগরিষ্ঠ হলেও মার্কিন সহায়তা কমে যাওয়ায় তারা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী রাষ্ট্রের নেতৃত্ব যদি সবচেয়ে অনিশ্চিত ও অপ্রত্যাশিত হয়, তাহলে অন্যান্য দেশগুলো স্বাভাবিকভাবেই বিকল্প পথ খুঁজবে বা চীনের দিকে ঝুঁকবে। এই প্রেক্ষাপটে, শি জিনপিংকে অনেক দেশ তুলনামূলকভাবে বেশি ‘নিয়ন্ত্রণযোগ্য’ বলে মনে করছে।

শেয়ার করুন