ইরান যদি পারমাণবিক অস্ত্র উন্নয়নের কর্মসূচি অব্যাহত রাখে, তাহলে দেশটির বিরুদ্ধে পুনরায় বড় ধরনের সামরিক অভিযানে সমর্থন দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র আর নীরব থাকবে না।
ফ্লোরিডার মার-এ-লাগোতে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক শেষে ট্রাম্প বলেন, গত জুন মাসে ইরানের পরমাণু স্থাপনায় মার্কিন হামলার পরও তেহরান আবার নতুন করে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরির উদ্যোগ নিতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা করছেন। তার মতে, ইরান আগের ধ্বংসপ্রাপ্ত স্থাপনাগুলোর পরিবর্তে অন্য কোনো গোপন অবকাঠামো ব্যবহার করতে পারে।
বৈঠক-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে ট্রাম্প জানান, বিভিন্ন প্রতিবেদনের মাধ্যমে তিনি জানতে পেরেছেন যে ইরান আবার পারমাণবিক অস্ত্র সংশ্লিষ্ট কার্যক্রমে জড়িত হচ্ছে। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যে স্থাপনাগুলোতে হামলা চালিয়েছিল, সেগুলোর বাইরে অন্য কোনো স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হতে পারে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।
ইরানকে সরাসরি সতর্ক করে ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কাছে তাদের কার্যক্রম ও অবস্থান সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা রয়েছে। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন, তেহরান এমন কোনো পদক্ষেপ নেবে না যাতে যুক্তরাষ্ট্রকে আবার দীর্ঘপথে সামরিক অভিযান চালাতে বাধ্য হতে হয়। তিনি উল্লেখ করেন, বি-২ বোমারু বিমানের মাধ্যমে পরিচালিত অভিযান অত্যন্ত দীর্ঘ ও ব্যয়বহুল, যা তিনি পুনরায় দেখতে চান না।
এদিকে ট্রাম্প প্রশাসন সম্প্রতি ইরানের সঙ্গে একটি সম্ভাব্য পারমাণবিক সমঝোতা নিয়ে আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছে। তবে আলোচনার মাঝেই চলতি মাসে ইরান দুই দফা ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছে, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে এবং যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সম্পর্ককে নতুন করে সংকটের মুখে ফেলতে পারে।





