মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিল ইসরাইল: নতুন সামরিক জটিলতা

ইসরাইল বিশ্বে প্রথম দেশ হিসেবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে সোমালিয়া এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। এবার সোমালিল্যান্ড ইস্যুতে ইসরাইলকে সতর্কবার্তা দিয়েছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহী গোষ্ঠী।

সোমালিল্যান্ডের অবস্থান এডেন উপসাগরের তীরে, যা ইয়েমেনের ঠিক বিপরীতে এবং বাব আল-মানদেব প্রণালির নিকটে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সমুদ্রপথ দিয়ে পরিচালিত হয়। এর ফলে এই অঞ্চল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

২০২৩ সাল থেকে লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীরা ইসরাইলি জাহাজগুলোতে নিয়মিত হামলা চালিয়ে আসছে। সোমালিল্যান্ডের উপকূল থেকে হুথিদের প্রধান ঘাঁটি হোদেইদাহ পর্যন্ত দূরত্ব ৩০০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার। সামরিক বিশ্লেষকরা মনে করেন, ইসরাইলের জন্য সোমালিল্যান্ড একটি ‘সামনের প্রতিরক্ষা ঘাঁটি’ হিসেবে কাজ করবে।

হুথি গোষ্ঠী সতর্ক করে জানিয়েছে, সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের যেকোনো সামরিক উপস্থিতিকে তারা ‘লক্ষ্যবস্তু’ হিসেবে বিবেচনা করবে। গোষ্ঠীর প্রধান আবদেল মালিক আল-হুথি এক বিবৃতিতে বলেন, “সোমালিল্যান্ডে ইসরাইলের যেকোনো পদক্ষেপ আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে মোকাবেলার জন্য বাধ্য করবে। এটি সোমালিল্যান্ড ও ইয়েমেনের প্রতি আগ্রাসন হিসেবে গণ্য হবে এবং অঞ্চলটির নিরাপত্তার জন্য হুমকি স্বরূপ।”

গত শুক্রবার ইসরাইল আনুষ্ঠানিকভাবে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দিয়েছে। ১৯৯১ সালে সোমালিয়া থেকে একতরফাভাবে বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এটি প্রথমবারের মতো কোনো দেশের স্বীকৃতি পেল।

হুথি নেতা সতর্ক করে বলেন, ইসরাইলের এই স্বীকৃতির পরিণতি মারাত্মক হতে পারে। তিনি উল্লেখ করেন, এ সিদ্ধান্ত সোমালিয়া ও আফ্রিকান প্রতিবেশী দেশগুলোকে, সেইসাথে ইয়েমেন ও লোহিত সাগরের তীরবর্তী রাষ্ট্রগুলোকে শত্রুতাপূর্ণ অবস্থানে রাখবে।

এর আগে সোমালিল্যান্ডকে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘটনাকে সোমালিয়া ‘রাষ্ট্রীয় আগ্রাসন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছে। দেশটি জানিয়েছে, এমন ধরনের পদক্ষেপ কখনও গ্রহণযোগ্য হবে না এবং তারা এ বিষয়ে কঠোর অবস্থান অবলম্বন করবে।

শেয়ার করুন