বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইতালিতে হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে ৯ জন প্রেফতার, জব্দ বিপুল পরিমাণ অর্থ

ইতালিতে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র সংগঠন হামাসকে অর্থায়নের অভিযোগে নয়জনকে গ্রেফতার করেছে দেশটির পুলিশ। একই অভিযানে আট মিলিয়নের বেশি মূল্যের সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। তদন্তে জানা গেছে, দাতব্য সংস্থার নামে সংগ্রহ করা অর্থ হামাসের কর্মকাণ্ডকে শক্তিশালী করতে ব্যবহৃত হচ্ছিল।

ইতালির জেনোয়া ও মিলানভিত্তিক কয়েকটি দাতব্য সংস্থার মাধ্যমে অন্তত ৭৩ লাখ ইউরো (৭.৩ মিলিয়ন ইউরো) হামাসের কাছে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। অভিযানে পুলিশ ও গার্দিয়া দি ফিনানজা যৌথভাবে সম্পদ জব্দ করেছে। পুরো অভিযান পরিচালিত হয়েছে জেনোয়ার জেলা অ্যান্টি-মাফিয়া ও অ্যান্টি-টেরোরিজম দফতরের তত্ত্বাবধানে।

তদন্ত অনুযায়ী, এই কার্যক্রম ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর দক্ষিণ ইসরায়েলে হামাস-নেতৃত্বাধীন হামলার আগেই শুরু হয়েছিল। জেনোয়া ও মিলানভিত্তিক তিনটি সংস্থা আন্তর্জাতিক অর্থ স্থানান্তরের জটিল নেটওয়ার্ক তৈরি করেছিল। গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে সাতজন হামাসের বিদেশি অপারেশন শাখার সদস্য এবং বাকি দুইজন বাহ্যিক সহায়তাকারী হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।

মোহাম্মদ হান্নুন (৬৩) নামের এক ব্যক্তিকে এই নেটওয়ার্কের মূল নেতা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তিনি ‘অ্যাসোসিয়েশন অব প্যালেস্টিনিয়ানস ইন ইতালি’-এর সভাপতি এবং ‘অ্যাসোসিয়াসিওনে বেনেফিকা দি সোলিদারিয়েতা কন ইল পোপোলো প্যালেস্তিনেসে’ (এবিএসপিপি)-এর প্রতিষ্ঠাতা। রাষ্ট্রপক্ষ জানায়, এবিএসপিপি ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সংগৃহীত অনুদানের ৭১ শতাংশের বেশি হামাস-নিয়ন্ত্রিত বা হামাস-সংক্রান্ত প্রতিষ্ঠানে পাঠানো হয়েছে।

তদন্তাধীন সংস্থাগুলোর মধ্যে রয়েছে ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবিএসপিপি, ২০০৩ সালে গঠিত আরেকটি এবিএসপিপি, এবং ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মিলানে প্রতিষ্ঠিত ‘লা কুপোলা দ’ওরো’। আদালতের নথি অনুযায়ী, ইউনিক্রেডিট, ক্রেডিট অ্যাগ্রিকোল ও পোস্টে ইতালিয়ানে হান্নুন-সংশ্লিষ্ট ব্যাংক অ্যাকাউন্ট বন্ধ হওয়ার পর অভিযুক্তরা নতুন সংস্থা তৈরি করে নজরদারি এড়িয়ে যাচ্ছিল। এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তার পর।

শেয়ার করুন