সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

তারেক রহমানের পরিকল্পনা ভুলভাবে উপস্থাপন ভারতীয় মিডিয়ায় অপপ্রচার

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন উপলক্ষে আয়োজিত গণসংবর্ধনার বক্তব্যকে ভিত্তিহীনভাবে বিকৃত করে ভারতের একটি গণমাধ্যম সংবাদ প্রকাশ করেছে বলে শনাক্ত করেছে প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) পরিচালিত ফ্যাক্টচেক ও মিডিয়া রিসার্চ টিম বাংলাফ্যাক্ট।

শুক্রবার বাংলাফ্যাক্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, তারেক রহমান তার পুরো ভাষণে ভারতের কোনো বিষয়ে মন্তব্য করেননি। তবে ‘এবিপি আনন্দ’ নামের গণমাধ্যম অপ্রাসঙ্গিকভাবে শিরোনামে ‘ভারত নিয়ে পরিকল্পনা’ উল্লেখ করেছে, যেখানে এই দাবির পক্ষে কোনো ব্যাখ্যা বা প্রমাণই নেই।

বাংলাফ্যাক্টের অনুসন্ধানী দল জানিয়েছে, তারেক রহমানের বক্তব্যের ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’ অংশটুকু উদ্ধৃত করে বিভ্রান্তিকর শিরোনাম তৈরি করা হয়েছে। আসলে ভাষণে ভারতের সঙ্গে কোনো পরিকল্পনার উল্লেখ ছিল না। শুধুমাত্র বক্তৃতার একটি অংশ বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে।

২৫ ডিসেম্বর দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশে ফেরেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান। রাজধানীর পূর্বাচলে ৩০০ ফিট এলাকায় আয়োজিত গণসংবর্ধনায় তিনি ভবিষ্যৎ বাংলাদেশ গড়ার জন্য নিজের একটি পরিকল্পনার কথা তুলে ধরেন। যদিও পরিকল্পনার বিস্তারিত উল্লেখ করেননি, তবে দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।

তারেক রহমান তার বক্তব্য শুরু করার আগে যুক্তরাষ্ট্রের বর্ণবৈষম্যবিরোধী নেতা মার্টিন লুথার কিং-এর ৬২ বছর আগের ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’ বক্তৃতার কথা স্মরণ করেন। সেই ঐতিহাসিক ভাষণের সুর মিলিয়ে তিনি বলেন, “আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান।”

তারেক রহমান বলেন, “প্রিয় ভাই-বোনেরা, আমরা দেশের শান্তি চাই। মার্টিন লুথার কিং-এর বিখ্যাত ‘আই হ্যাভ অ্যা ড্রিম’-এর কথা জানেন তো? আজ আমি বাংলাদেশের মাটিতে দাঁড়িয়ে বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের একজন সদস্য হিসেবে, ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান’, আমার দেশের মানুষের জন্য, দেশের জন্য। এই পরিকল্পনা দেশের জনগণের কল্যাণে।”

কিন্তু ভারতীয় গণমাধ্যম এবিপি আনন্দ ‘আই হ্যাভ অ্যা প্ল্যান… বাংলাদেশে ফিরেই বিস্ফোরক খালেদা পুত্র, ভারতকে নিয়ে পরিকল্পনা?’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশ করেছে। বাংলাফ্যাক্ট এ শিরোনামকে সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপ্রাসঙ্গিক বলে চিহ্নিত করেছে।

বাংলাফ্যাক্ট আরও জানিয়েছে, গত এক বছরের মধ্যে ভারতীয় গণমাধ্যম, ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজে বাংলাদেশ সংক্রান্ত ভুল তথ্যের প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য সাধারণত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এবং চলমান আন্দোলন বা দলকে লক্ষ্য করে প্রচারিত হচ্ছে।

বাংলাফ্যাক্ট বর্তমানে ইন্টারনেটে ছড়ানো শত শত ভুয়া তথ্য শনাক্ত করেছে। প্রতিষ্ঠানটি দেশের জনগণের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে, গুজব ও ভুল তথ্য প্রতিরোধে নিয়মিত কাজ করে যাচ্ছে।

শেয়ার করুন