বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাশিয়ার যুদ্ধকালীন সামরিক উৎপাদন ২২ গুণ বৃদ্ধি

ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘর্ষের পর থেকে রাশিয়ার সামরিক শিল্পখাতে উৎপাদন অভূতপূর্ব হারে বেড়েছে। বিশেষ করে অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ ২২ গুণ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে।

শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) ক্রেমলিনে প্রতিরক্ষা শিল্প সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন এই তথ্য জানিয়ে বলেন, ট্যাংকের উৎপাদন ২.২ গুণ বৃদ্ধি পেয়েছে, সামরিক বিমান তৈরি হয়েছে ৪.৬ গুণ বেশি, আর আঘাত হানার সক্ষম অস্ত্র ও গোলাবারুদের উৎপাদন বেড়েছে ২২ গুণ।

পুতিন আরও জানান, বিশেষ সামরিক অভিযানে অংশগ্রহণকারী সেনাদের প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করছে দেশটির প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো। তিনি বলেন, যুদ্ধের কৌশল ও পরিস্থিতি ক্রমাগত পরিবর্তিত হওয়ায় সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনেও নিয়মিত সমন্বয় আনা হচ্ছে।

রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা রিয়া নোভোস্তিকে উদ্ধৃত করে পুতিন বলেন, ২০২২ সাল থেকে সরকারিভাবে সমর্থন পেয়ে প্রতিরক্ষা শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো তাদের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা দ্রুত শক্তিশালী করতে সক্ষম হয়েছে, যা অত্যাধুনিক অস্ত্র ও সরঞ্জাম উৎপাদনের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এনেছে।

তিনি জানান, সাঁজোয়া যান ও জনবাহী সাঁজোয়া যান (বিএমপি ও এপিসি) উৎপাদন ৩.৭ গুণ বেড়েছে, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ সরঞ্জামের উৎপাদন বৃদ্ধি পেয়েছে ১২.৫ গুণ, আর রকেট ও আর্টিলারি অস্ত্রের উৎপাদন বেড়েছে ৯.৬ গুণ।

পুতিন বলেন, সামরিক-শিল্প কমপ্লেক্সের এই অগ্রগতি প্রতিরক্ষা শিল্পের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফল। একই সঙ্গে এটি পুরো অর্থনীতির স্থিতিশীলতা ও শক্তিশালী আর্থিক অবস্থা না থাকলে সম্ভব হতো না।

তিনি বলেন, বিশেষ সামরিক অভিযানের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে সামরিক-শিল্প খাতের নতুন কাঠামো গড়ে তোলা হচ্ছে। যুদ্ধের ধরন, কৌশল ও কার্যপ্রণালির পরিবর্তনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উৎপাদন ও সরঞ্জামের উন্নয়নে মনোনিবেশ করা হচ্ছে।

ভবিষ্যতের পরিকল্পনায় উৎপাদন খরচ কমানো একটি মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করেছেন পুতিন। তিনি অস্ত্র পরীক্ষাগার, প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উন্নয়ন ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির ওপরও জোর দিয়েছেন।

পুতিন বলেন, অস্ত্র ও সামরিক খাতের মোট ব্যয়ের প্রায় অর্ধেকই উচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ব্যবস্থার জন্য বরাদ্দ করা হচ্ছে, যা ভবিষ্যতের সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষমতা নির্ধারণ করবে। এতে রয়েছে কৌশলগত পারমাণবিক বাহিনী, মহাকাশ ভিত্তিক অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও যোগাযোগ সুবিধা।

এদিকে রিয়া নোভোস্তি জানায়, রাশিয়ার ২০২৭–২০৩৬ সালের রাষ্ট্রীয় অস্ত্র উৎপাদন পরিকল্পনায় ভবিষ্যতের যুদ্ধ সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। গত ১৭ ডিসেম্বর প্রতিরক্ষামন্ত্রী আন্দ্রেই বেলাউসভ এই কর্মসূচি উপস্থাপন করেন।

শেয়ার করুন