নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকায় বুড়িগঙ্গা নদীতে লঞ্চের ধাক্কায় ‘কাশফা স্নেহা’ নামের বাল্কহেড ডুবে দুজন শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনা ঘটেছে বৃহস্পতিবার ভোরে, যখন ঢাকাগামী যাত্রীবাহী লঞ্চ ‘সুন্দরবন-১৬’ নদীতে নোঙর করা বাল্কহেডটির পেছনের দিকে সজোরে ধাক্কা দেয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভোর ৭টার দিকে ধর্মগঞ্জের আফসার ফিলিং স্টেশনের সামনে বুড়িগঙ্গা নদীতে নোঙর করা বাল্কহেডটি ধাক্কায় মুহূর্তের মধ্যে তলিয়ে যায়। এ সময় বাল্কহেডের উপর থাকা তিনজন শ্রমিক সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হন, তবে কেবিনে ঘুমিয়ে থাকা জহুরুল ইসলাম শাকিল (২৫) ও মো. হাসান (২০) নিখোঁজ হন।
নিখোঁজদের মরদেহ সন্ধ্যায় বাল্কহেডের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়। বিআইডব্লিউটিএ’র সহকারী পরিচালক কামরুল হাসান জানান, ইঞ্জিন রুমের প্রবেশ পথ ফ্লোটিং এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।
পাগলা নৌপুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আকিবুল ইসলাম জানিয়েছেন, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে এবং আর কেউ নিখোঁজ নেই। তিনি বলেন, “এই ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এসএম ফয়েজ উদ্দিন জানান, সুন্দরবন-১৬ লঞ্চটি আটক করা হয়েছে এবং দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে প্রধান করে আট সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ঘন কুয়াশার কারণে লঞ্চচালক নোঙর করা বাল্কহেডটি ঠিকমতো দেখতে পাননি। দুর্ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী বাল্কহেডের চালক নান্নু মিয়া বলেন, “রাতে আমরা পাঁচজন ঘুমিয়ে ছিলাম। হঠাৎ লাফ দিয়ে বাঁচার চেষ্টা করি। তখন দুজন শ্রমিক নিখোঁজ হয়ে যায়। পরে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।”





