বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

শিশু ও বয়স্কদের জন্য নিরাপদ, আদার গরম রসম

শীতকালে জ্বর, সর্দি-কাশি এবং গলাব্যথার সমস্যায় শিশু ও বয়স্ক সকলেই প্রভাবিত হন। ঠান্ডা লাগলেই শরীর দুর্বল হয়ে যায়, এবং শুকনো কাশি বা গলার জ্বালা দীর্ঘসময় ধরে বিরক্ত করে। এই সময় শুধুমাত্র ওষুধ বা অ্যান্টিবায়োটিকের ওপর নির্ভর করা যথেষ্ট নয়। ঘরোয়া প্রতিকার হিসেবে আদার রসম এক কার্যকর উপায়, যা রোজ সকালে ও সন্ধ্যায় খেলে কাশি, গলাব্যথা কমাতে সাহায্য করে।

আদার রসম শুধু কাশি ও গলাব্যথা সারাতে সহায়ক নয়, এটি হজম শক্তি বৃদ্ধি করে, পেটের গ্যাস, অম্বল এবং বুকের জ্বালা কমায়। বিভিন্ন প্রদেশের রান্নায় আদা এক গুরুত্বপূর্ণ মশলা হলেও ভেষজ হিসেবে এর অনেক উপকার রয়েছে। ঋতু পরিবর্তনের সময়ে খুসখুসে কাশি বা গলার জ্বালার জন্য আদা ব্যবহার করলে দ্রুত উপকার পাওয়া যায়। এছাড়া দীর্ঘ যাত্রায় বমি ভাব হলে মুখে দু’–এক টুকরো শুকনো আদা খেলেও তা নিয়ন্ত্রণে আসে।

এবার জেনে নেওয়া যাক আদার রসম কীভাবে বানাবেন।

উপকরণ:

২ চামচ আদাকুচি, ১টি বড় টম্যাটো কুচি, ১ চামচ তেঁতুলের ক্বাথ, আধ চামচ জিরে, একমুঠো কারি পাতা, ৪–৬টি গোটা গোলমরিচ, ৩–৪ কোয়া রসুন, এক চিমটে হলুদ গুঁড়ো, এক চামচ গোটা সর্ষে, ২টি শুকনো লঙ্কা, তেল বা ঘি ।

প্রণালী:
১. একটি পাত্রে ২ কাপ জলে টমেটো কুচি, হলুদ এবং তেঁতুলের ক্বাথ দিয়ে ফোটান যতক্ষণ না টম্যাটো নরম হয়।
২. এবার রসমের জন্য মশলা তৈরি করুন। জিরে, গোলমরিচ এবং রসুন বেটে নিন।
৩. টম্যাটো নরম হয়ে গেলে এতে আদাকুচি এবং প্রস্তুত করা মশলা যোগ করুন। মাঝারি আঁচে ৫–৭ মিনিট ফোটান, তবে বেশি সময় না ফোটানোই ভালো।
৪. একটি ছোট প্যানে ঘি বা তেল গরম করে গোটা সর্ষে, শুকনো লঙ্কা ও কারি পাতা ফোড়ন দিন। কম আঁচে নেড়ে সুন্দর গন্ধ বের হওয়া পর্যন্ত রাখুন।
৫. ফোড়নটি রসমের উপর ঢেলে দিন এবং ধনেপাতার কুচি ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।

আদার রসম এক দিন পর্যন্ত ফ্রিজে রাখা যায়। তবে খাবারের আগে ভালো করে গরম করে নিন। গরম গরম খেলে সর্দি, কাশি, গলাব্যথা ও পেটের সমস্যায় দ্রুত উপকার পাওয়া যায়।

শেয়ার করুন