বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বড়দিনে ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে খ্রিস্টানদের ওপর ৬০টিরও বেশি হামলা

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন উদ্‌যাপন ঘিরে উগ্রপন্থি হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর বাধা ও হয়রানির একাধিক অভিযোগ সামনে এসেছে। খ্রিস্টান সংগঠনগুলোর পাশাপাশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এসব ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে।

বড়দিনের মৌসুমকে কেন্দ্র করে পরিকল্পিতভাবে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের ওপর হামলা ও চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ভারতের ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্স। সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের কর্মকাণ্ডের তারা কোনো শর্ত বা ব্যতিক্রম ছাড়াই তীব্র নিন্দা জানায়।

ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্সের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশের বিভিন্ন রাজ্যে বড়দিন ও তার আগের প্রস্তুতিপর্বে যীশুখ্রিস্টের জন্ম উপলক্ষে গাওয়া ক্রিস্টমাস ক্যারল পরিবেশনকারীদের বাধা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি চার্চে ধর্মীয় সমাবেশ, প্রার্থনা অনুষ্ঠান ও বড়দিনের আয়োজনেও হস্তক্ষেপ ও হয়রানির অভিযোগ পাওয়া গেছে।

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, শুধু ব্যক্তিগত হয়রানিই নয়, কোথাও কোথাও চার্চে ভাঙচুর চালানো হয়েছে, বড়দিনের সাজসজ্জা নষ্ট করা হয়েছে এবং উৎসবে অংশ নেওয়া মানুষদের ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়া হয়েছে। নির্যাতিত খ্রিস্টানদের সহায়তায় কাজ করা অলাভজনক সংস্থা ‘ওপেন ডোরস’ জানিয়েছে, কেবল বড়দিনকে ঘিরেই ভারতজুড়ে ৬০টির বেশি হামলার ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে।

এসব ঘটনার মধ্যে মধ্যপ্রদেশের জাবালপুরের একটি ঘটনা ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সেখানে বড়দিনের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে আসা এক দৃষ্টিশক্তিহীন খ্রিস্টান নারীকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে বিজেপির স্থানীয় নেত্রী আঞ্জু ভারঘাভার বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিরোধী দল কংগ্রেস ঘটনাটিকে ‘নৃশংসতা ও অমানবিকতার দৃষ্টান্ত’ হিসেবে আখ্যা দেয়। চাপের মুখে স্থানীয় বিজেপি নেত্রীকে শোকজ নোটিশ দিলেও ভারঘাভা নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো অভিযোগ দায়ের হয়নি।

এ ছাড়া ওড়িশা ও দিল্লিতে সংঘটিত আরও দুটি ঘটনার ভিডিওতে দেখা যায়, কোথাও সান্তা ক্লজের টুপি বিক্রেতাদের হয়রানি করা হচ্ছে, আবার কোথাও বড়দিনের পোশাক পরা নারীদের হেনস্তা করা হচ্ছে। এসব ঘটনায় উগ্র হিন্দুত্ববাদী যুবকদের ‘হিন্দু রাষ্ট্রে খ্রিস্টান ধর্ম প্রচারের’ অভিযোগ তুলতে দেখা গেছে। কয়েকটি ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা সংগঠিত উগ্রপন্থি মব তৈরির সঙ্গে জড়িত বলেও অভিযোগ উঠেছে।

এই প্রেক্ষাপটে ক্যাথলিক বিশপস’ কনফারেন্স ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কাছে কঠোর আইন প্রয়োগ এবং খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে, যাতে তারা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে বড়দিন উদ্‌যাপন করতে পারেন। সংগঠনটির মতে, উগ্রপন্থিদের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ধর্ম পালনের সাংবিধানিক স্বাধীনতাকে ক্ষুণ্ন করছে।

সংখ্যালঘু, বিশেষ করে খ্রিস্টানদের অধিকার নিয়ে কাজ করা ইউনাইটেড ক্রিশ্চিয়ান ফোরাম এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, চলতি বছরে ভারতে খ্রিস্টানদের ওপর অন্তত ৬০০টি হামলার ঘটনা ঘটেছে।

প্রায় ১৪০ কোটি জনসংখ্যার ভারতে মোট জনসংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ৩ শতাংশ খ্রিস্টান। হিন্দু ও মুসলমানদের পর দেশটিতে সংখ্যাগত দিক থেকে খ্রিস্টানরাই তৃতীয় বৃহত্তম ধর্মীয় জনগোষ্ঠী।

তথ্যসূত্র: টিআরটি ওয়ার্ল্ড, দ্য হিন্দু

শেয়ার করুন