সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভালুকায় দিপু দাস হত্যাকাণ্ডে আরও ৬ জন গ্রেফতার

ময়মনসিংহের ভালুকায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগে দিপু চন্দ্র দাসকে (২৮) পিটিয়ে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় আরও ছয় জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। এ নিয়ে এ ঘটনায় গ্রেফতারের সংখ্যা দাঁড়াল ১৮ জনে। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ গ্রেফতার ছয় জন দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরি থেকে অব্যাহতি দিতে বাধ্য করার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) দুপুরে ময়মনসিংহ জেলা পুলিশের কার্যালয় থেকে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

এর আগে একই দিন গভীর রাতে ভালুকা উপজেলার হবিরবাড়ি ইউনিয়নের কাশর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছয় আসামিকে গ্রেফতার করে গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

নতুন করে গ্রেফতার হওয়া ব্যক্তিরা হলেন—সুনামগঞ্জের তাকবির (২২), ঠাকুরগাঁওয়ের রুহুল আমিন (৪২), ময়মনসিংহ সদরের নূর আলম (৩৩), তারাকান্দা উপজেলার শামীম মিয়া (২৮), নোয়াখালীর সেলিম মিয়া (২২) এবং মাদারীপুরের মাসুম খালাসী (২৩)।

এর আগে এই মামলায় গ্রেফতার হওয়া ১২ জন হলেন—আশিকুর রহমান (২৫), কাইয়ুম (২৫), লিমন সরকার (১৯), তারেক হোসেন (১৯), মানিক মিয়া (২০), এরশাদ আলী (৩৯), নিজুম উদ্দিন (২০), আলমগীর হোসেন (৩৮), মিরাজ হোসেন আকন (৪৬), আজমল হাসান সগীর (২৬), শাহিন মিয়া (১৯) ও নাজমুল (২১)।

পুলিশ জানায়, গত শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) বিকেলে নিহত দিপু চন্দ্র দাসের ছোট ভাই অপু চন্দ্র দাস বাদী হয়ে ভালুকা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাতনামা ১৫০ থেকে ১৬০ জনকে আসামি করা হয়। এরপর থেকেই র‍্যাব ও পুলিশের যৌথ অভিযানে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে একে একে ১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

ময়মনসিংহের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অর্থ ও প্রশাসন) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সর্বশেষ গ্রেফতার ছয় জন কারখানার ভেতরে থাকা কর্মচারীদের উসকানি দেন, স্লোগানের মাধ্যমে উত্তেজনা ছড়িয়ে দেন এবং দিপু চন্দ্র দাসকে চাকরিচ্যুত করার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন। কেন অভিযুক্ত যুবককে পুলিশের হাতে না তুলে জনতার হাতে তুলে দেওয়া হলো, সেই বিষয়টিও তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্যদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

উল্লেখ্য, গত ১৮ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) রাতে ভালুকার জামিরদিয়া এলাকার পাইওনিয়ার নিটওয়্যারস বিডি লিমিটেড কারখানায় ধর্ম অবমাননার অভিযোগ তুলে দিপু চন্দ্র দাসকে গণপিটুনি দেয় একদল উত্তেজিত ব্যক্তি। পরে তার মরদেহ ঢাকা–ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হয়। খবর পেয়ে পুলিশ রাত আড়াইটার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছে অর্ধদগ্ধ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়।

শেয়ার করুন