সোমবার, ২২ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইসরায়েলে বড়দিন উদযাপনে নিরাপত্তা প্রশ্নবিদ্ধ

ছবি: সংগৃহীত

ইসরায়েলের হাইফা শহরে ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান নাগরিকদের বড়দিন উদযাপনকে কেন্দ্র করে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে পুলিশ হস্তক্ষেপ করেছে। এই সময় সান্তা ক্লজের পোশাক পরা এক ফিলিস্তিনি যুবককে আটক করা হয়। স্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন মোসাওয়া সেন্টারের বরাতে বৃহস্পতিবার (২৪ ডিসেম্বর) মিডল ইস্ট আই সংবাদমাধ্যম এ তথ্য প্রকাশ করে।

স্থানীয় সময় ২১ ডিসেম্বর রোববার হাইফার ওয়াদি নিসনাস এলাকায় বসবাসরত ফিলিস্তিনি খ্রিস্টানদের আয়োজনকৃত বড়দিন অনুষ্ঠান পুলিশ জোরপূর্বক ছত্রভঙ্গ করে। একই সঙ্গে অনুষ্ঠানস্থল থেকে বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।

মোসাওয়া সেন্টার অভিযোগ করেছে, অভিযানের সময় পুলিশ অতিরিক্ত বলপ্রয়োগ করেছে। সান্তা ক্লজের পোশাক পরা যুবক ছাড়াও একজন ডিজে ও একজন রাস্তার বিক্রেতাকে আটক করা হয়। যদিও তারা সোমবার (২২ ডিসেম্বর) মুক্তি পেয়েছে, তবে ভবিষ্যতে আদালতে হাজিরা দিতে বলা হতে পারে।

সংগঠন আরও জানায়, পুলিশ কোনো আইনি অনুমতি ছাড়াই সঙ্গীত ইনস্টিটিউটে অভিযান চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি পুলিশ দাবি করেছে, তারা ‘অস্বাভাবিক শব্দ এবং জনশৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে’ ওই এলাকায় প্রবেশ করেছে।

আটক ব্যক্তিরা মোসাওয়া সেন্টারকে জানিয়েছেন, আটককালে তাদের ওপর শারীরিক হামলা চালানো হয়েছে এবং একজনের কাঁধে গুরুতর আঘাত লেগেছে, যার চিকিৎসা প্রয়োজন হয়। ইসরায়েলি পুলিশের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সান্তা ক্লজের পোশাক পরা যুবক পুলিশের সঙ্গে প্রতিরোধ করেছে এবং এক কর্মকর্তা ও মৌখিকভাবে সংঘর্ষে জড়িত হয়েছে।

এই ঘটনা এমন এক সময়ে ঘটেছে, যখন ইসরায়েল ও অধিকৃত ভূখণ্ডে বসবাসরত ফিলিস্তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে হয়রানি, বিধিনিষেধ এবং খ্রিস্টানবিরোধী হামলা বৃদ্ধি পাচ্ছে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চরম জাতীয়তাবাদী গোষ্ঠীর দ্বারা পরিচালিত এসব হামলায় গির্জায় অনুপ্রবেশ, প্রতীক ধ্বংস, থুতু নিক্ষেপ এবং কবরস্থান ভাঙচুর অন্তর্ভুক্ত।

এছাড়া, গাজা উপত্যকায় বসবাসরত ক্ষুদ্র খ্রিস্টান সম্প্রদায়ও অক্টোবর ২০২৩ থেকে শুরু হওয়া ইসরায়েলি হামলার শিকার হয়েছে। হামলায় বাড়িঘর, স্কুল ও গির্জাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। গাজার তিনটি ঐতিহাসিক গির্জা সেন্ট পোরফিরিয়াস চার্চ, হোলি ফ্যামিলি চার্চ এবং গাজা ব্যাপ্টিস্ট চার্চ গুরুতরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ইসরায়েল-ফিলিস্তিন সংঘাতের প্রেক্ষাপটে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৩ জন খ্রিস্টান নিহত বা আহত হয়েছেন। হাইফায় বড়দিন উদযাপন অনুষ্ঠানে পুলিশের অভিযান এবং সান্তা ক্লজের পোশাক পরা যুবকের আটক এই সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।

শেয়ার করুন