বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসামের কার্বি-আংলংয়ে সহিংসতায় নিহত ২: কারফিউ ও ইন্টারনেট সেবা বন্ধ

ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় আসাম রাজ্যের কার্বি-আংলং স্বায়ত্তশাসিত এলাকায় সম্প্রতি সংঘটিত সহিংসতায় কমপক্ষে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এই ঘটনায় নিরাপত্তা বজায় রাখতে স্থানীয় প্রশাসন রাত্রিকালীন কারফিউ জারি করেছে এবং মোবাইল ইন্টারনেট সেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে।

স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্কিত সমস্যা নিয়েই চলছিল অনশন আন্দোলন, যেখানে দাবি ছিল যে এলাকা হিন্দি, বাঙালি ও নেপালি সম্প্রদায়ের দ্বারা দখল করা হয়েছে এবং ওই ‘বহিরাগতদের উৎখাত করতে হবে’। এই অনশন গত ৬ ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়। ২২ ডিসেম্বর সোমবার পুলিশ আন্দোলনকারীদের নেতা তুলিকে চিকিৎসার জন্য গুয়াহাটিতে নিয়ে গেলে পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

আসামের পুলিশ মহাপরিচালক হরমিত সিং বার্তা সংস্থা এএনআইকে জানিয়েছেন, তিনি নিজে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। পুলিশ চিকিৎসকদের পরামর্শে আন্দোলনকারীদের নেতাকে গুয়াহাটিতে নেওয়ার পর ভুয়া খবর ছড়িয়ে পড়ে যে তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এর পর থেকেই সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে। আন্দোলনকারীরা একটি সেতু দখল করতে গেলে পুলিশ বাধা দেয় এবং তখন তাদের ওপর বোমা, তীর এবং ইট নিক্ষেপ করা হয়।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, সহিংসতায় বহিরাগতদের দোকান ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং পুলিশের সঙ্গে দফায় দফায় সংঘর্ষ হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আন্দোলনকারীদের আক্রমণে অন্তত ৪৮ পুলিশ কর্মী আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বাড়তি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।

কার্বি-আংলং অঞ্চলের প্রশাসন ভারতীয় সংবিধানের ষষ্ঠ তফশিলের আওতায় স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এখানে জমি ও অরণ্য সংক্রান্ত অধিকার স্থানীয় উপজাতিদের কাছে সংরক্ষিত। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় উপজাতি সম্প্রদায় অভিযোগ করছে, বহিরাগতরা তাদের সংরক্ষিত জমি দখল করে রেখেছে। ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে কার্বি-আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল উচ্ছেদের নোটিশ জারি করলেও, গুয়াহাটিতে দায়ের করা একটি পিটিশনের কারণে প্রক্রিয়া এগোয়নি।

অনশন আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্থানীয় উপজাতিরা বহিরাগতদের উচ্ছেদ দাবিতে ৬ ডিসেম্বর থেকে অনশন শুরু করেন। এদিকে, রাজ্যের মন্ত্রী রনোজ পেগু ও পুলিশের মহাপরিচালক স্থানীয় উপজাতিদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন এবং ২৬ ডিসেম্বরের জন্য ত্রিপাক্ষিক বৈঠক নির্ধারণ করা হয়েছে। আলোচনার উদ্দেশ্য ছিল উপজাতি সম্প্রদায়ের জমি ও অন্যান্য অধিকার সংক্রান্ত বিষয়গুলো সমাধান করা।

এমন পরিস্থিতিতে, সোমবার হঠাৎ সহিংসতা শুরু হয়। আন্দোলনকারীদের কয়েকজনকে পুলিশ সরিয়ে নেওয়ার পর স্থানীয়রা রাস্তা অবরোধ করে এবং পরে ডংকামুকাম এলাকায় কার্বি-আংলং স্বায়ত্তশাসিত কাউন্সিল প্রধান তুলিরাম রংহাঙের পরিবারের বাসভবনে আগুন ধরিয়ে দেয়।

মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্বশর্মা মঙ্গলবার রাতে এক্স হ্যান্ডেলে নিহত দুইজনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছেন। কংগ্রেস নেতা গৌরব গগৈ দাবি করেছেন, নিহতদের একজন পুলিশের গুলিতে নিহত হয়েছেন।

সহিংসতা নিয়ন্ত্রণে ভারতীয় ন্যায় সংহিতার ১৬৩ ধারা অনুযায়ী কার্বি-আংলং এলাকায় সাধারণ চলাচল নিয়ন্ত্রণ জারি করা হয়েছে। একই সঙ্গে পাঁচজনের বেশি মানুষ একত্রিত হওয়া, বিকেল ৫টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত যাতায়াত, মশালধারী মিছিলসহ সব ধরনের জমায়েত নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন