মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

২৯ ঘন্টায় নির্বাচনি তহবিল পূর্ণ হলো তাসনিম জারার

ঢাকা-৯ আসনের জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব এবং এমপি প্রার্থী ডা. তাসনিম জারার নির্বাচনি তহবিলের লক্ষ্যমাত্রা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ হয়েছে। মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে তিনি নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই তথ্য জানিয়ে অনুদান গ্রহণ সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা দেন।

ডা. তাসনিম জারা জানান, এই স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রায় ৪৭ লাখ টাকা অনুদান পাওয়া যাওয়ায় আপাতত আর কোনো অনুদান গ্রহণ করা হচ্ছে না। তিনি বলেন, “আমাদের ফান্ড রেইজিংয়ের লক্ষ্য ছিল প্রায় ৪৭ লাখ টাকা, যা মাত্র ২৯ ঘণ্টায় পূরণ হয়েছে। এই অভূতপূর্ব সাড়া পুরোনো রাজনৈতিক ধারার মূলে কাঁপন ধরিয়েছে। আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ। আমরা আর কোনো অনুদান গ্রহণ করছি না।”

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনের আসল লড়াই এখন শুরু। অধিকাংশ প্রার্থী এই নির্বাচনে ১০ থেকে ৫০ কোটি টাকা খরচ করবেন। অনেকে মনে করেন, টাকা দিয়ে ভোট কেনা সম্ভব। তবে তারা ভুলে যান, তাদের সঙ্গে রয়েছেন সাধারণ মানুষ, যারা নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে নিজের পকেটের টাকাও খরচ করতে প্রস্তুত।

তাসনিম জারার ফেসবুক পোস্ট

ডা. তাসনিম জারা জানান, ঢাকা-৯ আসনে প্রায় পাঁচ লাখ ভোটার রয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে দিনে ১২ ঘণ্টা হেঁটে, প্রতিটি পরিবারের সঙ্গে পাঁচ মিনিট করেও সর্বোচ্চ ১০০ থেকে ১১০টি পরিবারের সঙ্গে কথা বলা সম্ভব। পুরো নির্বাচনি সময়ে বড়জোর চার হাজার পরিবারের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ করা যাবে। এর বাইরে কয়েক লাখ পরিবারের কাছে বার্তা পৌঁছাবে না।

তিনি উল্লেখ করেন, আমরা টাকার রাজনীতি প্রত্যাখ্যান করেছি। তাই পেইড কর্মী নিয়োগ দেওয়া হবে না। মানুষের কাছে বার্তা পৌঁছে দেওয়ার মূল দায়িত্ব থাকবে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর।

এনসিপির এই সিনিয়র যুগ্ম সদস্যসচিব বলেন, অনেক সময় ভোটার না হলেও পরিচিত ব্যক্তিরা এই এলাকায় থাকেন। তাদের মাধ্যমে দেওয়া বার্তা পোস্টার, ব্যানার বা অর্থ খরচের চেয়ে অনেক বেশি কার্যকর হতে পারে। এই নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি নিজে নিয়ম মেনে কোনো পোস্টার লাগাননি, যেখানে অন্য প্রার্থীরা করেছেন। এই অসমতা কাটাতে একজন ভোটারও একটি ফোন কলের মাধ্যমে প্রচারণায় সাহায্য করতে পারবেন।

এছাড়া আপনাদের কাছে আমার আরও দুইটি সুনির্দিষ্ট আহ্বান আছে:

১. সপ্তাহে মাত্র ৪-৮ ঘণ্টা সময় দিন আমাদের হয়ে মানুষের দ্বারে দ্বারে যাওয়ার জন্য। আপনার দুটি কথা একটি পেইড বিলবোর্ডের চেয়ে হাজার গুণ শক্তিশালী হবে। একা একা নয়, আপনি ট্রেইনিং নিয়ে একটি টিমের সঙ্গে এই কাজটি করবেন।

২. পোলিং এজেন্ট হিসেবে কিংবা নির্বাচনের দিন ভোটারদের সহায়তা করতে আমাদের টিমে যোগ দিন। এক্ষেত্রেও আপনি ট্রেনিং নিয়ে একটি গ্রুপের অংশ হয়ে কাজ করবেন। ভোটের দিন প্রতিটি বুথে আমাদের এমন সাহসী মানুষ প্রয়োজন যারা অন্যায়ের সামনে মাথা নত করবেন না। আমরা এক সঙ্গে প্রমাণ করব, জনগণের সম্মিলিত শক্তির সামনে কোটি কোটি কালো টাকা কতটা অসহায়।

তিনি আরও বলেন, শুরু থেকেই আমি প্রতিশ্রুতি দিয়েছি যে, এই ফান্ডের প্রতিটি পয়সার হিসাব হবে স্বচ্ছ। এই স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে আমরা নিচের পদক্ষেপগুলো মেনে চলছি:

১. আমরা কোনো ক্যাশ ডোনেশন গ্রহণ করছি না। প্রতিটি অনুদান একটি মাত্র বিকাশ ও একটি মাত্র ব্যাংক অ্যাকাউন্টে আসছে, যার রেকর্ড সরাসরি বাংলাদেশ ব্যাংক দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এটি ভবিষ্যতে যাচাই করা যাবে।

২. কোন মাধ্যমে কত টাকা আসছে, তা আমরা আপনাদের নিয়মিত জানাচ্ছি। এই সমস্ত নথিপত্র আমরা নির্বাচন কমিশনের কাছে জমা দেব, যাতে তারা পূর্ণ স্বচ্ছতা যাচাই করতে পারে।

৩. আমরা যে বিকাশ এবং ব্যাংক অ্যাকাউন্টে অনুদান নিচ্ছি, সেখানে আমাদের ব্যক্তিগত কোনো লেনদেন করা হয় না। অ্যাকাউন্ট দুইটি নতুন। হিসাব শূন্য থেকে শুরু হয়েছে। এই অ্যাকাউন্টগুলোর ব্যালেন্সের ১০০% অর্থই আপনাদের অনুদান। এতে করে অন্য কোনো টাকা এখানে মিশে যাওয়ার বা হিসাব গোলমাল হওয়ার কোনো সুযোগ নেই।

৪। সংগৃহীত অর্থ ঠিক কোন কোন খাতে কতটুকু ব্যয় করা হবে, তা স্পষ্ট করে আপনাদের সামনে তুলে ধরা হবে।

শেয়ার করুন