রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আসাম নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ হিমন্ত বিশ্ব শর্মার

ছবি: সংগৃহীত

ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলের রাজ্য আসামে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত জনগোষ্ঠীর সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে—এ প্রবণতা রাজ্যটির ভবিষ্যৎ নিয়ে গভীর উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আসামের মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা। তাঁর আশঙ্কা, এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন অব্যাহত থাকলে এক সময় আসাম কার্যত বাংলাদেশের অংশে পরিণত হতে পারে। এ বক্তব্য ঘিরে সীমান্ত, অভিবাসন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভির খবরে বলা হয়, মঙ্গলবার (২৩ ডিসেম্বর) একটি সরকারি কর্মসূচি শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মুখ্যমন্ত্রী জানান, আসামে বসবাসকারী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মানুষের সংখ্যা যদি আরও ১০ শতাংশ বৃদ্ধি পায়, তাহলে পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে, যাকে তিনি ‘স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়া’র সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে তিনি এই জনসংখ্যাগত পরিবর্তন নিয়ে ধারাবাহিকভাবে সতর্ক করে আসছেন।

এ সময় বাংলাদেশের এক নেতার উত্তর–পূর্ব ভারতকে বাংলাদেশের সঙ্গে সংযুক্ত করার মন্তব্য প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বর্তমানে আসামের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪০ শতাংশই বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত। এই হার যদি আরও ১০ শতাংশ বেড়ে যায়, তাহলে আসাম স্বাভাবিকভাবেই বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাওয়ার মতো অবস্থায় পৌঁছাবে—এমন শঙ্কাই তাকে উদ্বিগ্ন করছে।

তিনি আবারও উল্লেখ করেন, এ কারণেই তিনি গত পাঁচ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে সরব রয়েছেন।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, চলতি মাসের শুরুতে বাংলাদেশের ন্যাশনাল সিটিজেন পার্টির (এনসিপি) নেতা হাসনাত আবদুল্লাহর একটি মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ভারতের বিভিন্ন গণমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।

ওই মন্তব্যে বলা হয়েছিল, নয়াদিল্লি যদি বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করে, তাহলে ঢাকার উচিত ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে মূল ভূখণ্ড থেকে ‘বিচ্ছিন্ন’ করে রাখা এবং সেখানে সক্রিয় বিচ্ছিন্নতাবাদী শক্তিগুলোকে সহযোগিতা করা।

হাসনাত আবদুল্লাহ আরও বলেন, ভারতের উত্তর–পূর্বাঞ্চল ভৌগোলিকভাবে একটি ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থানে রয়েছে, কারণ অঞ্চলটি ভারতের মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সংযুক্ত রয়েছে অত্যন্ত সংকীর্ণ শিলিগুড়ি করিডরের মাধ্যমে, যা ‘চিকেনস নেক’ নামে পরিচিত।

এই বক্তব্যের তীব্র প্রতিক্রিয়ায় আসামের মুখ্যমন্ত্রী বলেন, ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে উত্তর–পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যগুলোকে বিচ্ছিন্ন করার হুমকি কোনোভাবেই ভারত মেনে নেবে না।

তার ভাষায়, এ ধরনের বক্তব্য চলতে থাকলে দিল্লি চুপ করে বসে থাকবে না।

তিনি আরও দাবি করেন, বাংলাদেশ থেকে বারবার এমন ধারণা ছড়ানো হচ্ছে যে উত্তর–পূর্বাঞ্চলকে আলাদা করে বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্ত করা উচিত—এই চিন্তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও বাস্তবতাবিবর্জিত।

ভারত একটি বৃহৎ রাষ্ট্র, পারমাণবিক শক্তিধর দেশ এবং বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম অর্থনীতি—এই বাস্তবতা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হিমন্ত বিশ্ব শর্মা বলেন, বাংলাদেশের জনগণের মধ্যে এ বিষয়ে ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে।

তিনি সতর্ক করে বলেন, ভারতের বিরুদ্ধে এমন মনোভাব বা আচরণ অব্যাহত থাকলে দেশটি নিশ্চুপ থাকবে না।

মুখ্যমন্ত্রীর এসব মন্তব্যকে কেন্দ্র করে আসামসহ গোটা উত্তর–পূর্বাঞ্চলে অভিবাসন, জনসংখ্যাগত পরিবর্তন এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ইস্যুগুলো আবারও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।

শেয়ার করুন