গবেষকেরা আশাবাদ ব্যক্ত করছেন, অ্যালঝাইমার্স রোগের অগ্রগতি উল্লেখযোগ্যভাবে ধীর করতে পারে নতুন এক ওষুধ। মস্তিষ্কে ক্ষতিকর প্রোটিনের কার্যক্রমকে নিয়ন্ত্রণে রেখে রোগীর স্মৃতিশক্তি রক্ষা করবে এটি। ‘এনইউ-৯’ নামের এই ওষুধ মূলত সেই প্রোটিনকে লক্ষ্য করে, যা অ্যালঝাইমার্সের শুরুতে মস্তিষ্কে জমতে থাকে এবং স্মৃতিশক্তি ক্ষয় ঘটায়। গবেষকরা দাবি করছেন, রোগটি পাকাপোক্তভাবে মাথায় থাবা বসানোর আগেই এই ওষুধ তা রোধ করতে সক্ষম।
নর্থওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির বিজ্ঞানীরা এই ওষুধ উদ্ভাবন করেছেন। ইঁদুরের উপর পরীক্ষা করে এর কার্যকারিতা নিশ্চিত হওয়ায় এখন মানুষের উপর পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গবেষকরা জানিয়েছেন, অ্যালঝাইমার্স রোগে মস্তিষ্কের জিনের বিন্যাসে পরিবর্তন আসে, যা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে আনা অত্যন্ত জটিল। তাই এই রোগের চিকিৎসা সাধারণ রোগের তুলনায় অনেক বেশি জটিল ও সময়সাপেক্ষ।
অ্যালঝাইমার্সের মূল কারণ হিসেবে যে প্রোটিনটির ভূমিকা রয়েছে, সেটি হল বিটা-অ্যামাইলয়েড অলিগোমার। এই প্রোটিন মস্তিষ্কে জমতে জমতে ‘প্লাক’ তৈরি করে। প্লাক স্নায়ুর মধ্যে জট তৈরি করে এবং স্নায়ু থেকে সঙ্কেত আদানপ্রদানে বাধা সৃষ্টি করে। এর ফলে মস্তিষ্কের কোষ ক্ষয় হতে শুরু করে এবং স্মৃতিশক্তি ধীরে ধীরে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। রোগী শুধু ভুলে যাওয়ার সমস্যায় ভুগেন না, পাশাপাশি তার আচরণ, মনোভাব ও দৈনন্দিন কার্যক্রমেও পরিবর্তন আসে।
‘এনইউ-৯’ ওষুধের মূল উদ্দেশ্য হল এই প্লাক গঠনের প্রক্রিয়াকে রোধ করা। এটি এমনভাবে কাজ করবে যাতে বিটা-অ্যামাইলয়েড প্রোটিন মস্তিষ্কে ছড়িয়ে পড়তে না পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে প্রোটিনটি অল্পমাত্রায় তৈরি হলেও ধীরে ধীরে স্নায়ুর জালে জড়ানো শুরু করে এবং পরিমাণ বৃদ্ধি পায়। মস্তিষ্কের একটি বিশেষ কোষ, অ্যারিথ্রোসাইট, স্নায়ুর কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রণে রাখে। প্রোটিনটির অতিরিক্ত উপস্থিতি এই কোষগুলিকে অতিসক্রিয় করে, যার ফলে মস্তিষ্কে প্রদাহ সৃষ্টি হয়।
গবেষকরা জানিয়েছেন, ইঁদুরের পরীক্ষায় দেখা গেছে, অ্যালঝাইমার্স রোগ শুরু হওয়ার প্রাথমিক পর্যায়ে যদি ‘এনইউ-৯’ প্রয়োগ করা হয়, প্রোটিনটি আর ছড়িয়ে পড়তে পারবে না। এর ফলে রোগ ধীরে ধীরে নিয়ন্ত্রণে চলে আসে এবং স্মৃতিশক্তি রক্ষা পায়। যদিও মানুষের উপর পরীক্ষামূলক প্রয়োগ এখনও শুরু হয়নি, তবে সফল পরীক্ষার পর আশা করা হচ্ছে, ভবিষ্যতে অ্যালঝাইমার্সের চিকিৎসা আরও কার্যকর ও নির্ভরযোগ্য হবে।
এ ধরনের ওষুধের উদ্ভাবন অ্যালঝাইমার্স রোগীর জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। গবেষকরা মনে করছেন, রোগটি প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত হলে ওষুধ প্রয়োগের মাধ্যমে রোগের অগ্রগতি অনেকটাই রোধ করা সম্ভব। এটি শুধু রোগীর স্মৃতি রক্ষা করবে না, বরং তার দৈনন্দিন জীবন, আচরণ ও সামাজিক যোগাযোগেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।





