বুধবার (১৭ ডিসেম্বর) চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং উই ভেনেজুয়েলার পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে ফোনালাপে কথা বলেন। এ সময় তিনি বলেন, চীন একতরফা হেনস্তার বিরুদ্ধে দৃঢ় অবস্থান নিয়ে দাঁড়িয়েছে এবং স্বাধীন দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষাকে সমর্থন করছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, ভেনেজুয়েলা চীনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কৌশলগত অংশীদার। দুই দেশের সম্পর্কের ভিত্তি হলো পারস্পরিক বিশ্বাস ও সহযোগিতা, যা ভবিষ্যতেও দৃঢ়ভাবে বজায় থাকবে।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভেনেজুয়েলায় নৌ অবরোধ আরোপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত যেসব ট্যাংকার জাহাজ রয়েছে, সেগুলো এখন থেকে ভেনেজুয়েলার জলসীমায় প্রবেশ বা বের হতে পারবে না। একই সঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার ওপর সম্পূর্ণ নজর রাখছে।
ট্রাম্প সামাজিকমাধ্যম ট্রুথে লিখেছেন, “ভেনেজুয়েলা দক্ষিণ আমেরিকার ইতিহাসে বৃহত্তম নৌবহরের মাধ্যমে এখন অবরুদ্ধ। আমাদের সম্পদ চুরি, মাদক পাচার, মানবপাচার ও সন্ত্রাসবাদের মতো বিভিন্ন কারণে ভেনেজুয়েলার সরকারকে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। এই কারণে, নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত সব তেলবাহী ট্যাংকার ভেনেজুয়েলায় যাওয়া বা আসা থেকে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।”
ভেনেজুয়েলার সরকার ট্রাম্পের এ পদক্ষেপকে নিন্দা জানিয়ে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্র নৌ অবরোধের মাধ্যমে দেশটির প্রাকৃতিক সম্পদ চুরির চেষ্টা করছে। তারা জানিয়েছে, এই সম্পদের একমাত্র মালিক হলো ভেনেজুয়েলা।
গত সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রের কোস্টগার্ড একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করে। তৎকালীন সময়ে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিকভাবে দস্যুতা হিসেবে গণ্য হবে। তিনি ট্যাংকার জব্দকে ‘চুরি’ হিসেবে অভিহিত করেন।
যুক্তরাষ্ট্র জব্দ করা ট্যাংকার টেক্সাস রাজ্যে নিয়ে গেছে এবং সেখানে তেলগুলো জাহাজ থেকে আনলোড করা হবে বলে সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে।
চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়েং উই বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ভেনেজুয়েলার বৈধ অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার প্রয়োজনীয়তা বুঝবে এবং চীন এই বিষয়গুলোকে সমর্থন করবে।





