বাংলাদেশ ও ভারতের সংযোগস্থল পেট্রাপোল–বেনাপোল সীমান্ত এলাকায় শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সীমান্তের বাংলাদেশ অংশে অবস্থান নিয়ে একদল মানুষ ভারতের বিরুদ্ধে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক লোকজন জড়ো হন।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডে জানায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগণা জেলার সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় দাঁড়িয়ে দীর্ঘ সময় ধরে স্লোগান দিতে থাকেন বাংলাদেশিরা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পরে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ভারতের আধিপত্যবিরোধী আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত জুলাই যোদ্ধা ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র ওসমান হাদিকে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা গুলি করে হত্যা করেছে—এমন অভিযোগকে কেন্দ্র করেই এই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অভিযুক্তরা ভারতে আশ্রয় নিয়েছে—এমন তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে ভারতের প্রতি অসন্তোষ ও ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়।
এর আগে, গত শুক্রবার জুমার নামাজের পর রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোড এলাকায় ওসমান হাদির ওপর হামলা চালানো হয়। নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীদের ছোড়া গুলিতে তিনি গুরুতর আহত হন। ঘটনার সময় তিনি ওই এলাকায় নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিলেন বলে জানা গেছে।
ওসমান হাদি আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। হামলার সময় একটি গুলি তার মাথায় লাগে। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে দ্রুত উদ্ধার করে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরবর্তীতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাকে এভারকেয়ার হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
চিকিৎসকদের পরামর্শে উন্নত চিকিৎসার জন্য গত ১৫ ডিসেম্বর দুপুরে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে পাঠানো হয়। সেখানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ওসমান হাদির আকস্মিক মৃত্যুতে তার পরিবার, রাজনৈতিক সহকর্মী ও সমর্থকদের মধ্যে গভীর শোকের আবহ নেমে এসেছে। এদিকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে এবং ঘটনার সব দিক গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।





