গত মাসে ইয়েমেনের তেলসমৃদ্ধ হাদরামাউত প্রদেশের বিস্তীর্ণ অঞ্চল নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় সাউদার্ন ট্রানজিশনাল কাউন্সিল (এসটিসি)। এই দখলদারির মাধ্যমে দেশটির দক্ষিণাঞ্চলে নতুন করে অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
১৯৯০ সালের আগে ইয়েমেন ছিল দুটি পৃথক রাষ্ট্র উত্তর ইয়েমেন ও দক্ষিণ ইয়েমেন। বর্তমানে এসটিসি সেই পুরনো বিভাজন কাঠামো পুনরায় ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যে এগোচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। তাদের এই অবস্থান দেশটির ভৌগোলিক অখণ্ডতার জন্য বড় ধরনের হুমকি তৈরি করছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের সমর্থনপুষ্ট এসটিসিকে ইতোমধ্যে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছে সৌদি আরব। রিয়াদের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে গেলে সৌদি বিমানবাহিনী সরাসরি হামলা চালাতে পারে। পাশাপাশি এসটিসিকে স্থলপথে ঠেকাতে সৌদি সীমান্তবর্তী আল-ওয়াদিয়াহ ও আল-আবর এলাকায় ‘ন্যাশনাল শেল্ড’ নামে একটি সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন করা হচ্ছে।
এই উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যেই এসটিসিকে প্রকাশ্য সহায়তার আশ্বাস দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। ফলে সৌদি আরব ও আমিরাত-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে সরাসরি সংঘর্ষের আশঙ্কা ক্রমেই বাড়ছে, যা ইয়েমেন সংকটকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।
ইয়েমেনের উত্তরাঞ্চলে হুতি বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে চলমান সংঘর্ষের কারণে দেশটি এমনিতেই ভয়াবহ গৃহযুদ্ধের কবলে রয়েছে। নতুন করে দক্ষিণাঞ্চলে সংঘাত শুরু হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করতে পারে। চলমান এই গৃহযুদ্ধে এখন পর্যন্ত প্রায় ৫০ লাখ মানুষ নিজ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন।
গত শুক্রবার এসটিসি আদেন অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এর পরপরই সৌদি আরব তাদের ওই এলাকা ছেড়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয়। তবে এসটিসি স্পষ্টভাবে জানিয়েছে, সৌদির দেওয়া এই নির্দেশ তারা মানবে না।
এর আগে এসটিসির যোদ্ধারা প্রথমে হাদরামাউত প্রদেশে প্রবেশ করে। পরে তারা পার্শ্ববর্তী মাহরা প্রদেশের দখল নেয়, যা ওমান সীমান্তসংলগ্ন একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। একই সঙ্গে আবইয়ান প্রদেশেও যোদ্ধা পাঠিয়ে সেখানে নিজেদের প্রভাব জোরদার করেছে গোষ্ঠীটি।
এসটিসির এই হঠাৎ ও দ্রুত বিস্তার সৌদি আরবকে বেশ বিস্মিত করেছে। কারণ ইয়েমেনে দীর্ঘদিন ধরেই সৌদির প্রভাব ও আধিপত্য রয়েছে। রিয়াদ কোনোভাবেই ইয়েমেনকে পুনরায় দুই ভাগে বিভক্ত হতে দিতে চায় না। অথচ এসটিসি সেই লক্ষ্য সামনে রেখেই অগ্রসর হচ্ছে।
হাদরামাউত প্রদেশ ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের প্রায় ৩৬ শতাংশজুড়ে বিস্তৃত। এই প্রদেশেই অবস্থিত দেশের সবচেয়ে বড় তেলক্ষেত্র। পাশাপাশি রয়েছে মুকাল্লা ও আল-শিরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর এবং ডাব্বা এলাকায় একটি তেল রপ্তানি টার্মিনাল। ফলে এই অঞ্চলটির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দ্বন্দ্ব ইয়েমেন সংকটকে আরও গভীর করে তুলছে।





