মার্কিন পার্লামেন্ট কংগ্রেস সিরিয়ার ওপর আরোপিত সব অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। গৃহযুদ্ধ ও জাতিগত দ্বন্দ্বে ভেঙে পড়া দেশটিতে দেশি ও বিদেশি বিনিয়োগের পথ সুগম করতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট হাফিজ আল আসাদের মৃত্যুর পর তার ছেলে বাশার আল আসাদ ২০০০ সালের জুলাই মাসে রাষ্ট্রের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন। বাশারের ক্ষমতাকালে যুক্তরাষ্ট্র সিরিয়ার ওপর একাধিক নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিল, যার মধ্যে জ্বালানি তেল বিক্রয় ও বিদেশি বিনিয়োগ নিয়েও বিধিনিষেধ অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ক্ষমতার পরিবর্তনের পর সৌদি আরব ও তুরস্কের সুপারিশের প্রেক্ষিতে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এসব নিষেধাজ্ঞার কার্যকারিতা স্থগিত করেছিলেন। তবে নতুন প্রশাসন চেয়েছিল, এই নিষেধাজ্ঞা সম্পূর্ণভাবে প্রত্যাহার করা হোক।
গতকাল মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট এই সংক্রান্ত একটি বিল উত্থাপন করে। ভোটাভুটিতে ৭৭ জন সিনেটর বিলের পক্ষে এবং ২০ জন বিপক্ষে ভোট দেন। সিনেটের এই সিদ্ধান্ত ইতিমধ্যে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের অনুমোদন পেয়েছে।
ভোটের পর সিনেটের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক কমিটির সদস্য জিয়ান্নে শাহীন বলেন, “সিরিয়ার সাধারণ জনগণ গত কয়েক দশক ধরে যে অকল্পনীয় কষ্ট ও ভোগান্তি সহ্য করেছেন, এই পদক্ষেপ তাদের জন্য দেশ পুনর্গঠনের বাস্তব সুযোগ এনে দিচ্ছে।”
নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের খবর প্রকাশিত হতেই সিরিয়ার পক্ষ থেকে খুশির সাড়া এসেছে। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “সিরিয়ার জনগণের পাশে দাঁড়াতে যুক্তরাষ্ট্র যে পদক্ষেপ নিয়েছে, তা আমরা আন্তরিকভাবে স্বাগত জানাচ্ছি।”





