নেটপ্রভাবী থেকে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী! সম্প্রতি ‘পাপা কি পরি’ থেকে পরিচিতি পাওয়া প্রীতি সরকার এবার পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের নতুন ছবি ‘মন মানে না’-তে দ্বিতীয় নায়িকার ভূমিকায় দেখা যাবে। মা-বাবা বড় পর্দায় মেয়েকে দেখার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।
নেটপ্রভাবী হিসেবে বড় পর্দায় অভিনয় সম্ভব কি না এই প্রশ্নে প্রীতি বিনয়ে বললেন, “বলিউড বিষয়টি অনেকটা মেনে নিয়েছে। তবে টলিউডে এখনো অনেকের কাছে এটি সহজ নয়।” তাঁর অভিজ্ঞতা অনুযায়ী, যারা সব সময় ‘কনটেন্ট’ বানিয়ে সময় কাটান, তারা স্বাভাবিকভাবেই ক্যামেরার সামনে অভিনয়ে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। এই কারণেই আধুনিক অনেক অভিনেতা নিজেকে সমাজমাধ্যমে ‘রিল’-এর মাধ্যমে পরিচিত করছেন। প্রীতি স্পষ্ট করে বললেন, “সব কনটেন্ট ক্রিয়েটার জানে, তারা অভিনয়ে পারদর্শী, এমনটা নয়।”
প্রতি সাত বছর ধরে নেটপ্রভাবী হিসেবে কাজ করা প্রীতি জানিয়েছে, এই অভিজ্ঞতা বড় পর্দার জন্য কাজে লেগেছে। তিনি বলেন, “আমি ‘মিনি সিরিজ’ তৈরি করেছি, তাই অভিনয়ের অভ্যাস থাকায় ভয় লাগেনি। এমনকি ঋত্বিক ভৌমিকের মতো অভিনেতার সঙ্গে কাজ করলেও নিজেকে বিশ্বাস করতে পারিনি।” তিনি আরও জানান, ছবির জন্য একটি চরিত্রে পরীক্ষা দিতে গিয়েছিলেন, কিন্তু পরিচালক রাহুল মুখোপাধ্যায়ের বিশ্বাসে তাঁকে ‘শ্রেয়া’ চরিত্রের জন্য বেছে নেওয়া হয়। প্রীতি যোগ করেন, “চরিত্রের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কণ্ঠ ও আচরণ পরিবর্তন করতে হয়েছে। চ্যালেঞ্জ ছিল, কিন্তু নিজের মধ্যে ভাঙন আনা সহজ ছিল।”
ব্যস্ত অভিনয় জীবনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবনও প্রীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বলেন, “অতিভার কাজে এতটাই ডুবে ছিলাম যে নিকটজনদের সঙ্গে সম্পর্কের ফাঁক ধরতে শুরু করেছিলাম। হঠাৎ বুঝতে পারলাম, বন্ধু ও পরিবারের কেউ কেউ আমার আচরণে আঘাত পেয়েছে। এখন কাছের মানুষদের ডাকেও দেরি করি না।”
ছবির শিরোনাম ‘মন মানে না’ প্রীতির জীবনের প্রেমময় দিকের সঙ্গে মিল খায়। তিনি অকপটভাবে জানালেন, “প্রেমে প্রচুর হতাশা ও ব্যর্থতা পেয়েছি, তবু ভালোবাসা থেকে দূরে থাকা আমার পক্ষে সম্ভব নয়।”
ছবিতে প্রীতি সহ আরও অভিনয় করছেন শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের মেয়ে হিয়া। প্রীতি বলেন, “হিয়া খুব বন্ধুসুলভ এবং মিষ্টি। শাশ্বত চট্টোপাধ্যায়ের কাজের আমি বড় ভক্ত, তবে সরাসরি সাক্ষাৎ হয়নি।”
এছাড়াও প্রীতি আরও কিছু ছবিতে ও সিরিজে কাজ করতে যাচ্ছেন, যার ফলে ব্যস্ততা দ্বিগুণ হবে। কিন্তু ‘পাপা কি পরি’ ভক্তদের জন্য আশ্বাস দিয়েছেন, “যতই কাজের চাপ বাড়ুক না কেন, মাঝেমধ্যেই ‘পাপা কি পরি’ ফিরে আসবে।”





