চলতি বছরে মালয়েশিয়ার সেলাংগর অঙ্গরাজ্যে হত্যা, ছিনতাই, দাঙ্গা, বাসাবাড়িতে চুরিসহ নানা ধরনের অপরাধে বিদেশি নাগরিকদের সংশ্লিষ্টতার তথ্য নথিভুক্ত হয়েছে। রাজ্য পুলিশ জানিয়েছে, এসব অপরাধের ঘটনায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক বিদেশিকে আটক করা হয়েছে, যা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে।
সেলাংগর পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে অক্টোবর পর্যন্ত বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকার অভিযোগে মোট ১ হাজার ৯৩১ জন বিদেশি নাগরিককে গ্রেফতার করা হয়। এর আগের বছর একই রাজ্যে অপরাধ সংশ্লিষ্টতায় গ্রেফতার হওয়া বিদেশির সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৯৪৩ জন। তুলনামূলকভাবে সংখ্যা কমলেও বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে বলে জানায় পুলিশ।
রাজ্য পুলিশের প্রধান দাতুক শাজেলি কাহার বলেন, আটক ব্যক্তিদের একটি বড় অংশের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আদালতে অভিযোগ গঠন করা হয়েছে এবং প্রমাণ সাপেক্ষে তাদের সাজাও দেওয়া হয়েছে। তবে যেসব ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য ও সাক্ষ্য পাওয়া যায়নি, সেসব ব্যক্তিকে মালয়েশিয়ার ইমিগ্রেশন বিভাগে (জেআইএম) হস্তান্তর করা হয়েছে। ইমিগ্রেশন আইন ১৯৫৯/৬৩ অনুসারে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
হারিয়ান মেট্রোকে দেওয়া সাম্প্রতিক এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, সেলাংগরে গ্রেফতার হওয়া বিদেশিদের বেশিরভাগই আসিয়ানভুক্ত বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তার ভাষায়, শিল্প ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে সেলাংগর স্থানীয়দের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক বিদেশি শ্রমিকের কর্মস্থল হিসেবে গড়ে উঠেছে। এর ফলে জনসংখ্যার ঘনত্ব বাড়ছে, যা সামাজিক টানাপোড়েন ও অপরাধের ঝুঁকিও বৃদ্ধি করছে।
তবে দাতুক শাজেলি কাহার মনে করেন, সরকার নির্ধারিত নিয়ম মেনে বৈধ কাগজপত্রসহ বিদেশি শ্রমিক নিয়োগ করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই কমানো সম্ভব। বৈধভাবে নিবন্ধিত শ্রমিকদের পরিচয় যাচাই সহজ হয় এবং কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলে তদন্ত ও নজরদারি কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে পরিচালনা করা যায় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, অবৈধভাবে প্রবেশ করা কিংবা নথিবিহীন শ্রমিকদের কোনো নির্ভরযোগ্য রেকর্ড না থাকায় তারা অপরাধে জড়ালে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ে। এতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাজ জটিল হয় এবং স্থানীয় সমাজও নানা নেতিবাচক প্রভাবের মুখে পড়ে।
এ প্রেক্ষাপটে রাজ্য পুলিশের প্রধান স্থানীয় জনগণ ও কমিউনিটির প্রতি আহ্বান জানান, যেন তারা অবৈধ শ্রমিক নিয়োগকারী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে পুলিশ, ইমিগ্রেশন বিভাগ কিংবা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। সমাজের মানুষকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের ‘চোখ ও কান’ হিসেবে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও আহ্বান জানান তিনি।





