শনিবার, ২ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভারতের মোদী সরকারের বাধা উপেক্ষা করে কেরালায় চলচ্চিত্র প্রদর্শন

ভারতের কেরালা রাজ্য সরকার ত্রিশতম কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শনের জন্য অনুমোদিত সব সিনেমা প্রদর্শনের নির্দেশ দিয়েছে। কেন্দ্রীয় মোদী সরকারের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এই উৎসবের জন্য নির্বাচিত ১৯টি সিনেমাকে সেন্সর ছাড়পত্র না দেওয়ায় প্রদর্শনীতে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এ অবস্থায় কেরালা সরকার নিজ উদ্যোগে সিনেমাগুলো প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত নেয়।

ত্রিবনন্তপুরমে অনুষ্ঠিত এই উৎসব শুরু থেকেই রাজনৈতিক ও সামাজিক সচেতনতার পরিবেশে আয়োজিত হয়েছে। উৎসবের সূচনা অনুষ্ঠান ও চলচ্চিত্র নির্বাচন ঘিরে ছিল স্পষ্ট অবস্থান, কিন্তু কেন্দ্রের ছাড়পত্র না দেওয়ায় কয়েকদিন ধরে প্রদর্শনী স্থবির হয়ে যায়। উৎসব প্রাঙ্গণে দর্শকদের মধ্যে বিক্ষোভেরও দেখা মেলে।

কেরালা সরকারের সংস্কৃতিমন্ত্রী সাজি চেরিয়ান সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে কেন্দ্রের সিদ্ধান্তকে অযৌক্তিক হস্তক্ষেপ বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, “কেরালার সাংস্কৃতিক পরিসরে এই ধরনের হস্তক্ষেপ গণতান্ত্রিক নয় এবং তা মেনে নেওয়া হবে না। তিন দশকের ঐতিহ্যবাহী উৎসবের মর্যাদা ও প্রগতিশীল চরিত্র ক্ষুণ্ণ করার কোনো চেষ্টা বরদাশত করা হবে না।”

মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়নও কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত প্রত্যাখ্যান করে রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেন। তিনি বলেন, “ভিন্নমত ও সৃজনশীল প্রকাশকে দমন করার এই প্রবণতার কাছে প্রগতিশীল কেরালা মাথা নত করবে না। তাই যেসব সিনেমা অনুমোদন পায়নি, সেগুলোও উৎসবে প্রদর্শিত হবে।”

বিরোধী রাজনীতিক ও চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা এই ঘটনার তীব্র সমালোচনা করেছেন। কংগ্রেস সাংসদ শশী থারুর বলেন, “যেসব সিনেমা নিষিদ্ধ করা হয়েছে, তার অনেকগুলো আগে ভারতে প্রদর্শিত ও পুরস্কৃত হয়েছে। একই উৎসবে আগে সম্মান পাওয়া সিনেমা আবার নিষিদ্ধ হওয়ার সিদ্ধান্ত অসঙ্গতির পরিচায়ক।”

উৎসব কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বিদেশি সিনেমা প্রদর্শনের জন্য বিশেষ ছাড়ের বিধান থাকলেও এবার সেই নিয়ম মানা হয়নি। এর ফলে শিল্পী ও দর্শকের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

সমস্ত বিবেচনায়, কেরালা আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবকে ঘিরে এই বিতর্ক দেশজুড়ে মত প্রকাশের স্বাধীনতা, চলচ্চিত্র সেন্সরশিপ ও সাংস্কৃতিক অধিকার নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।

শেয়ার করুন