শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে তিন জাহাজে মার্কিন হামলায় ৮

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে আন্তর্জাতিক জলসীমায় তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়ে আটজন নিহতের দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। লাতিন আমেরিকায় মার্কিন সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মধ্যে এই ঘটনাটি ঘটেছে। এর আগে, ভেনেজুয়েলার উপকূলের কাছে একটি তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করার ঘটনা ঘটে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য প্রকাশ করেছে।

সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ড (সাউথকম) জানায়, প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের নির্দেশে কাইনেটিক হামলা চালানো হয়, যার ফলে তিনটি পৃথক জাহাজ নিশানায় পরিণত হয়।

বিবৃতিতে বলা হয়, হামলায় মোট আটজন নিহত হয়েছেন—প্রথম জাহাজে তিনজন, দ্বিতীয়টিতে দুজন এবং তৃতীয় জাহাজে তিনজন। মার্কিন সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, নিহতরা মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত, তবে এ দাবি প্রমাণিত হয়নি।

গত সেপ্টেম্বর থেকে ভেনেজুয়েলার নিকটে প্রশান্ত মহাসাগর ও ক্যারিবীয় সাগরে এ ধরনের হামলায় অন্তত ৯০ জনের প্রাণহানি ঘটেছে। আন্তর্জাতিক আইন বিশেষজ্ঞরা এই হামলাকে যুক্তরাষ্ট্রের বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড হিসেবে সমালোচনা করেছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসও এই ঘটনার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথের ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। আইনপ্রণেতারা জানতে চেয়েছেন, সেপ্টেম্বরে দ্বিতীয়বারের মতো হামলার নির্দেশ তিনি নিজে দিয়েছিলেন কি না। অভিযোগ রয়েছে, প্রথম হামলা থেকে বেঁচে যাওয়া দুই ব্যক্তি ধ্বংসাবশেষের মধ্যে আটকা পড়ে ছিলেন।

এদিকে, পেন্টাগন ক্যারিবীয় অঞ্চল ও মেক্সিকো উপসাগরে যুদ্ধজাহাজ, একটি সাবমেরিন, ড্রোন ও যুদ্ধবিমান মোতায়েন করেছে। যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এসব পদক্ষেপ মাদক পাচার দমন ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা এই ব্যাখ্যা প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, হামলা ও সামরিক শক্তি বৃদ্ধির মূল লক্ষ্য হলো দেশের তেল ও গ্যাস সম্পদ দখল করা। গত সপ্তাহে উপকূলে তেলবাহী ট্যাংকার জব্দের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সাংবাদিকদের জানান, “আমি ধরে নিচ্ছি, আমরা তেলটা রাখব।”

এদিকে, ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সরকার জানিয়েছে, তারা মার্কিন সামরিক বিমানের জন্য তাদের বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে। এই বিমানবন্দরগুলি আগামী কয়েক সপ্তাহে লজিস্টিক সহায়তা, সরবরাহ এবং সেনাদের রোটেশন কার্যক্রমের জন্য ব্যবহার করা হবে।

ক্যারিবীয় এই দ্বীপরাষ্ট্রটি ভেনেজুয়েলার উপকূল থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি প্রসঙ্গে ত্রিনিদাদ ও টোবাগো সমর্থন প্রকাশ করেছে, যেখানে মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার কিছু নেতা উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

প্রতিক্রিয়ায় ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো ঘোষণা করেছেন, তার দেশ ত্রিনিদাদ ও টোবাগোতে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করবে। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল তেলেসুর সোমবার এ তথ্য জানিয়েছে।

পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে প্রাণঘাতী হামলা, ট্যাংকার জব্দ এবং প্রতিবেশী দেশের বিমানবন্দর ব্যবহারের অনুমতি—সব মিলিয়ে লাতিন আমেরিকায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক কর্মকাণ্ড আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে। এ পদক্ষেপগুলোর আইনি বৈধতা ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার ওপর প্রভাব নিয়েও জোরালো প্রশ্ন উঠছে।

শেয়ার করুন