বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

আমরা নিরাপদ না থাকলে শত্রুরাও নিরাপদ থাকবে না : মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের সাবেক তথ্য উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, সামনে দেশের পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটময়। আমাদের গায়ে হাত দেওয়া যাবে না। একটা লাশ পড়লে আমরাও লাশ নেব। এত সুশীলতা করে আর কোনো লাভ নেই, কারণ অনেক হয়েছে, অনেক ধৈর্য ধারণ করা হয়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশে ভারত ও ভিনদেশিদের স্বার্থ যারা রক্ষা করবে, তাদের কোনোভাবেই আমাদের কাতারে ঠাঁই দেওয়া যাবে না এবং তাদের নিরাপদ থাকতে দেওয়া হবে না। আমরা যদি এই দেশে নিরাপদ না থাকি, তাহলে আমাদের শত্রুরাও নিরাপদ থাকতে পারবে না—এটাই হচ্ছে বেসিক কন্ডিশন।

সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) রাজধানীর কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে ইনকিলাব মঞ্চ আয়োজিত সর্বদলীয় প্রতিরোধ সমাবেশে সংহতি জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাহফুজ আলম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর আমাদের যে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা ছিল, সেই লড়াইয়ে আমরা পরাজিত হয়েছি। এর ফলেই আজ আমাদের মধ্য থেকেই একজন জুলাইয়ের বীর, শরীফ উসমান বিন হাদি গুলিবিদ্ধ হয়েছেন।

তিনি বলেন, ৫ আগস্টের পর আমাদের হাতে যখন এই মুজিববাদীদের, আওয়ামী লীগ ও ১৪ দলীয় সন্ত্রাসীদের প্রত্যেকটি বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ক্ষমতা ছিল, তখন আমরা নিজেদের সংবরণ করেছিলাম। সেই সংযমের কারণেই আজ তারা আবার সাহস পাচ্ছে। আমরা যদি ক্ষমা করে ভুল করে থাকি, তাহলে এখন প্রতিজ্ঞা নিতে হবে—আর কোনো ক্ষমা করা হবে না।

মাহফুজ আলম আরও বলেন, শুরুতে আমরা বলেছিলাম মুজিববাদের মূল উৎপাটন করতে হবে। কিন্তু মুজিববাদের শেকড় বাংলাদেশে এতটাই গভীরে প্রোথিত যে, কালচারাল, ইন্টেলেকচুয়াল ও পলিটিক্যাল—সব দিক থেকেই এর মোকাবিলার শক্তি অর্জনের যে লড়াই প্রয়োজন, সে ধরনের উদ্যোগ খুব কমই দেখা গেছে। ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার একটি উদ্যোগ হলেও এর বাইরে তেমন কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়েনি।

তিনি বলেন, ১৯৭২ সালের সংবিধানের ভিত্তিতে যে মুজিববাদ প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, তার মধ্য দিয়ে এই স্বাধীন বাংলাদেশে হাজার হাজার মানুষের লাশ পড়েছে। ভারতীয় আধিপত্য বজায় রাখতে কালচারাল অ্যাক্টিভিস্ট, বুদ্ধিজীবী, শিক্ষক থেকে শুরু করে আইন অঙ্গনের লোকজন পর্যন্ত সবাইকে কব্জা করা হয়েছে।

ভিনদেশি অ্যাসেটরা ওসমান হাদিকে হত্যার যুক্তি তৈরির চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে মাহফুজ আলম বলেন, হাদির ওপর হামলার সময় সবাই নীরব ছিল। তখন কোনো প্রতিবাদ শোনা যায়নি, বরং আমাদের সঙ্গে নাটক করা হয়েছে।

সাবেক এই তথ্য উপদেষ্টা আরও বলেন, আমরা ভেবেছিলাম দেশের ভেতরের রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব দেশের মধ্যেই মোকাবিলা করা যাবে। কিন্তু এখন স্পষ্টভাবে হুঁশিয়ারি দিতে চাই—যদি এই দেশের লড়াই দেশের বাইরে নিয়ে যাওয়া হয়, তাহলে মুক্তির লড়াইও দেশের বাইরেই বিস্তৃত হবে।

শেয়ার করুন