অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী :
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়ম ও অযৌক্তিক মূল্যায়ন পদ্ধতির অভিযোগ তুলে মানববন্ধন করেছেন শিক্ষার্থীরা। সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন ভবনের সামনে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা জানান, চারুকলা অনুষদের সাম্প্রতিক শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রশ্নপত্রের মান ও মূল্যায়ন কাঠামো নিয়ে গুরুতর অসংগতি রয়েছে। বিষয়টির মৌলিক চরিত্র উপেক্ষা করে এমন একটি পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়েছে, যা চারুকলা শিক্ষার মান ও ভবিষ্যৎকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলছে বলে তারা দাবি করেন।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, চারুকলা একটি সম্পূর্ণ ব্যবহারিক ও সৃজনশীল বিষয় হলেও শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় ৮৫ শতাংশ নম্বর থিওরি এবং মাত্র ১৫ শতাংশ প্রাক্টিক্যাল নির্ধারণ করা হয়েছে। এই অসম ও অযৌক্তিক নম্বর বণ্টনের ফলে শিল্পীসত্তা, সৃজনশীলতা ও ব্যবহারিক দক্ষতার যথাযথ মূল্যায়ন হয়নি বলে তারা মনে করেন।
তারা আরও বলেন, শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষার তুলনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের মান ছিল অনেক নিম্নস্তরের। যেখানে নিবন্ধন পরীক্ষায় তুলনামূলকভাবে মানসম্মত প্রাক্টিক্যাল প্রশ্ন থাকে, সেখানে শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষায় প্রাথমিক পর্যায়ের ‘হাত আঁকা’র মতো প্রশ্ন অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, যা একটি উচ্চমানের নিয়োগ পরীক্ষার গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন, পরিকল্পিতভাবে প্রাক্টিক্যাল দক্ষতাকে অবমূল্যায়নের মাধ্যমে যোগ্য ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগের পথ সংকুচিত করা হচ্ছে, যা চারুকলা শিক্ষার জন্য ক্ষতিকর।
এ সময় শিক্ষার্থী, শিল্পী, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সচেতন নাগরিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে শিক্ষক নিয়োগ প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্ত, বিতর্কিত প্রশ্নপত্র বাতিল করে পুনর্মূল্যায়ন, প্রাক্টিক্যালভিত্তিক বিষয়ে যৌক্তিক নম্বর বণ্টন নিশ্চিত করা, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুসরণ করে প্রাক্টিক্যাল-কেন্দ্রিক নিয়োগ নীতিমালা প্রণয়ন এবং চারুকলা শিক্ষার মান ও মর্যাদা রক্ষায় কার্যকর প্রশাসনিক উদ্যোগ গ্রহণ।
শিক্ষার্থীরা জানান, তারা শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে বিশ্বাসী। তবে দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ না নিলে ভবিষ্যতে আরও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে তারা হুঁশিয়ারি দেন।





