‘গ্রেপ্তারের পরই র্যাবকে বলেছিলাম আমাকে শো-রুমে নিয়ে যেতে, তাহলেই প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে। কিন্তু তারা তা করেনি। পরে থানায় গিয়ে পুলিশকেও একই কথা বলেছি। বলেছি, তদন্ত করুন—সব জানা যাবে। এই মোটরসাইকেলটি আমি মিরপুর মাজার রোড এলাকা থেকে কিনেছিলাম। হাতে সমস্যার কারণে পরিবার আমাকে মোটরসাইকেল চালাতে নিষেধ করেছিল। সে কারণে গাড়িটি বাসায় পড়ে ছিল। দীর্ঘদিন পড়ে থাকায় নষ্ট হয়ে যেতে পারে ভেবে পরে একটি শো-রুমে বিক্রি করে দিই। আমি মালিকানা পরিবর্তন করে দেওয়ার কথাও বলেছিলাম। তারা দুই মাস আগে আমাকে ফোন করেছিল, কিন্তু অসুস্থ থাকায় তখন যেতে পারিনি।’
শরিফ ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের মালিক মো. আব্দুল হান্নান আদালতের অনুমতি নিয়ে এভাবেই নিজের বক্তব্য উপস্থাপন করেন। রোববার (১৪ ডিসেম্বর) রাজধানীর মোহাম্মদপুর এলাকা থেকে সন্দেহভাজন হিসেবে তাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে আদালত তার তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। শুনানিকালে আসামিপক্ষে কোনো আইনজীবী উপস্থিত ছিলেন না।
রোববার সন্ধ্যায় তদন্ত কর্মকর্তার করা সাত দিনের রিমান্ড আবেদনের শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট দিদারুল আলম এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষের কৌঁসুলি অ্যাডভোকেট শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন। পল্টন মডেল থানার উপ-পরিদর্শক শামীম হাসান রিমান্ড আবেদনটি দাখিল করেন।
এদিন ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে হাজির করা হয়। প্রথমে তদন্ত কর্মকর্তা তাকে কারাগারে পাঠানোর আবেদন করেন। পরে একই দিনে পুনরায় আবেদন করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হয়।
শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট ওমর ফারুক ফারুকী বলেন, ‘ওসমান হাদিকে হত্যাচেষ্টায় যে মোটরসাইকেলটি ব্যবহার করা হয়েছে, সেটির ছবি ও তথ্য বিভিন্ন মাধ্যমে এসেছে। তদন্ত কর্মকর্তা মোটরসাইকেলের মডেল শনাক্ত করেছেন এবং যাচাই-বাছাই সম্পন্ন করেছেন। যেহেতু গাড়িটি মালিক নিজে চালাননি, তবুও কীভাবে সেটি ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলো, তা উদঘাটনের জন্য আসামির রিমান্ড প্রয়োজন। এটি সারা দেশের জন্য উদ্বেগজনক ঘটনা। সামনে নির্বাচন। হাদি একজন সৎ মানুষ। এই হত্যাচেষ্টার রহস্য উন্মোচনে আসামির সাত দিনের রিমান্ড জরুরি।’
রাষ্ট্রপক্ষের অপর কৌঁসুলি এপিপি শামসুদ্দোহা সুমনও রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। তিনি বলেন, ‘মোটরসাইকেলের রেজিস্ট্রেশন নম্বর যাচাই করে দেখা গেছে এর মালিক হান্নান। বিভিন্ন সময় বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন দমনে মোটরসাইকেল ব্যবহারের তথ্য রয়েছে। গ্রেপ্তারের পর থেকে আসামি অসংলগ্ন তথ্য দিচ্ছে। একটি সংঘবদ্ধ চক্র পরিকল্পিতভাবে আলাদা আলাদা হামলা চালিয়েছে। তারই অংশ হিসেবে হাদির ওপর আক্রমণ করা হয়েছে।’
রিমান্ড আবেদনে উল্লেখ করা হয়, র্যাব-২ আসামি হান্নানকে আটক করে পল্টন মডেল থানায় হস্তান্তর করে। গত ১২ ডিসেম্বর দুপুর ২টা ২৪ মিনিটে রাজধানীর বক্স কালভার্ট এলাকায় ঢাকা-৮ আসনের সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থী ও ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরিফ ওসমান হাদি গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হন। বর্তমানে তিনি এভারকেয়ার হাসপাতালে সংকটাপন্ন অবস্থায় চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পর আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা যায়, ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চলার সময় অজ্ঞাতনামা দুই ব্যক্তি একটি মোটরসাইকেলে এসে তাকে লক্ষ্য করে আগ্নেয়াস্ত্র দিয়ে গুলি চালায়। ফুটেজ বিশ্লেষণ করে র্যাব-২ জানতে পারে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটির রেজিস্ট্রেশন নম্বর ‘ঢাকা মেট্রো ল-৫৪-৬৩৭৫’। পরে বিআরটিএর তথ্য অনুযায়ী মালিক হিসেবে মো. আব্দুল হান্নানের নাম পাওয়া যায়।
আবেদনে আরও বলা হয়, মামলার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে এবং আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদে মোটরসাইকেল সংক্রান্ত বিষয়ে সন্তোষজনক তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার সঙ্গে ব্যবহৃত অস্ত্র উদ্ধার, পলাতক আসামিদের অবস্থান শনাক্ত এবং অবৈধ অস্ত্রের উৎস জানার স্বার্থে তাকে রিমান্ডে নেওয়া প্রয়োজন।





