বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর তারেক রহমানের কর্মসূচি

প্রায় ১৭ বছর পর নির্বাসিত জীবনের অবসান ঘটিয়ে দেশে ফিরছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে আগামী ২৫ ডিসেম্বর তিনি ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে। একমাত্র কন্যা জাইমা রহমানকে সঙ্গে নিয়ে তার এই প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক প্রস্তুতি ও আগ্রহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

তারেক রহমানের দেশে ফেরাকে কেন্দ্র করে সোমবার (১৫ ডিসেম্বর) বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে যৌথ সভা ডাকা হয়েছে। সভায় দলের সিনিয়র নেতাদের সঙ্গে নিয়ে আগমন ও পরবর্তী কর্মসূচির সার্বিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করা হবে।

দলীয় সূত্রগুলো বলছে, দীর্ঘদিন বিদেশে থেকেও অনলাইনে সক্রিয়ভাবে দল পরিচালনা করা তারেক রহমানের নেতৃত্ব ভবিষ্যৎ রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে—এমন প্রত্যাশা রয়েছে দলের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যেও। রাজনৈতিকভাবে তিনিই মূল নেতৃত্ব হওয়ায় তার প্রত্যাবর্তন ঘিরে সবার নজর কেন্দ্রীভূত।

২০০৭ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর গ্রেফতার হয়ে ২০০৮ সালে চিকিৎসার জন্য যুক্তরাজ্যে যান তারেক রহমান। শারীরিকভাবে অসুস্থ অবস্থায় দেশ ছাড়লেও এবার তিনি সম্পূর্ণ ভিন্ন প্রেক্ষাপটে দেশে ফিরছেন—যাকে দলীয় নেতারা একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত হিসেবে দেখছেন।

দলীয় নেতারা বলছেন, তার দেশে ফেরার মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের সংগ্রামে নতুন গতি আসবে। শৃঙ্খলাবদ্ধ হলেও আবেগঘন অভ্যর্থনার প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে প্রস্তুতি সভা, প্রচারণা ও সাংগঠনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে।

তবে তারেক রহমানের দেশে ফেরার পর প্রথম দিনের কর্মসূচি পুরোপুরি নির্ভর করছে বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার শারীরিক অবস্থার ওপর। চেয়ারপারসনের স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ভালো থাকলে বিমানবন্দর থেকে শহীদ মিনারে যাওয়া এবং পরে জিয়াউর রহমানের মাজার জিয়ারতের সম্ভাবনা রয়েছে। অন্যথায় কর্মসূচিতে পরিবর্তন আসতে পারে।

দলীয় সূত্র জানায়, বর্তমানে খালেদা জিয়া চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন এবং চিকিৎসায় সাড়া দিচ্ছেন। তার শারীরিক উন্নতি বা অবনতির ওপর ভিত্তি করেই তারেক রহমানের পরবর্তী কর্মসূচি চূড়ান্ত হবে।

স্থায়ী কমিটির একাধিক সূত্রের মতে, দেশে ফেরার পর তারেক রহমান দেশব্যাপী সফর, নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং মায়ের চিকিৎসার পাশে থাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন। সামগ্রিকভাবে সব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই বিএনপি প্রস্তুতি নিচ্ছে।

শেয়ার করুন