চলচ্চিত্র জগতে একটি প্রচলিত ধারণা রয়েছে বিয়ে করলে নায়ক-নায়িকাদের জনপ্রিয়তা নাকি ধীরে ধীরে কমে যায়। অতীতে এই ধারণা এতটাই শক্ত ছিল যে অনেক শিল্পী বিয়ের পর নিজেদের বৈবাহিক সম্পর্ক গোপন রাখার চেষ্টা করতেন। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এই মানসিকতা কিছুটা বদলালেও বিষয়টি নিয়ে এখনও আলোচনা থামে না। বিশেষ করে অভিনেত্রীদের ক্ষেত্রে প্রায়ই প্রশ্ন ওঠে বিয়ে কি তাঁদের ক্যারিয়ারে প্রভাব ফেলে? বিভিন্ন সাক্ষাৎকারে বহু অভিনেত্রীকে বলতে শোনা যায়, তাঁরা আপাতত বিয়ের কথা ভাবছেন না, বরং পেশাগত কাজে মনোযোগ দিতে চান। এই ধরনের বক্তব্যের বিরোধিতা করেছিলেন অভিনেত্রী ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন। তাঁর মতে, বিয়ে এবং কাজ দুটোই সমানভাবে সামলানো সম্ভব। এবার স্ত্রীর সেই মতের সঙ্গেই একাত্মতা প্রকাশ করলেন অভিনেতা অভিষেক বচ্চন।

এক সাক্ষাৎকারে অভিষেক স্পষ্ট করে বলেন, বিয়ে হওয়ার কারণে জনপ্রিয়তা কমে যাওয়ার ধারণাটি পুরোপুরি ভুল। নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, বিয়ের পর ঐশ্বর্যার জনপ্রিয়তায় কোনও ভাটা তো পড়েইনি, বরং তাঁকে ঘিরে আলোচনা আরও বেড়েছে। অভিষেকের মতে, শুধু ঐশ্বর্যাই নন, এই বিষয়ে আদর্শ উদাহরণ হিসেবে ধরা যেতে পারে বর্ষীয়ান অভিনেত্রী হেমা মালিনিকেও। তিনি বলেন, হেমা মালিনির বিয়ের পর মুক্তি পাওয়া একাধিক ছবি দর্শকমহলে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। তবে বিয়ের পর জীবনে পরিবর্তন আসে এ কথা স্বীকার করতেই দ্বিধা করেননি অভিষেক। তাঁর মতে, বিয়ে কিংবা সন্তানের আগমনের সঙ্গে সঙ্গে মানুষের দায়িত্ববোধ বেড়ে যায় এবং জীবনের অগ্রাধিকারেও পরিবর্তন আসে। অভিনেতার ভাষায়, এই সময়ে যদি কেউ কেবল নিজেকে নিয়েই ভাবেন বা অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিক হয়ে পড়েন, তাহলে সম্পর্কের মধ্যে সমস্যা তৈরি হতে পারে। পারস্পরিক বোঝাপড়া ও দায়িত্ব ভাগ করে নেওয়াই সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার মূল চাবিকাঠি বলে মনে করেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ঐশ্বর্যা ও অভিষেক বচ্চনের দাম্পত্য জীবন ইতিমধ্যেই ১৮ বছর পেরিয়েছে। এই দীর্ঘ সময়ে তাঁদের সম্পর্ক নিয়েও নানা গুঞ্জন ও বিতর্ক শোনা গেছে। তবে এসব বিষয়ে প্রকাশ্যে কোনও দিনই মুখ খোলেননি এই তারকা দম্পতি। নিজেদের ব্যক্তিগত জীবনকে আলোচনার বাইরে রাখতেই বরাবরই সচেতন থেকেছেন তাঁরা।





