ভারতের হয়ে টানা বারো বছর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রতিনিধিত্ব করছেন স্মৃতি মান্ধানা। তবে বহু প্রতীক্ষার পর চলতি বছর ভারতের মাটিতে অনুষ্ঠিত নারী ওয়ানডে বিশ্বকাপে এসে পেলেন প্রথমবারের মতো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার স্বাদ। ঠিক এই সাফল্যের পরই দীর্ঘদিনের সঙ্গী পলাশের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন তিনি। গায়ে হলুদের মতো নানা আনুষ্ঠানিকতা শেষ হলেও মূল বিয়ের পর্বের আগেই হঠাৎ সবকিছু থেমে যায়। প্রথমদিকে জানানো হয় স্মৃতির বাবার অসুস্থতার কারণেই বিয়ে পিছিয়েছে। পরে শোনা যায়, পলাশও নাকি অসুস্থ হয়ে পড়েন। এসময়ই নতুন করে গুঞ্জন ছড়াতে থাকে যে, পলাশ সম্পর্কের ক্ষেত্রে নাকি বিশ্বস্ত ছিলেন না।
শেষ পর্যন্ত সম্প্রতি ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে স্মৃতি নিজেই বিয়ে বাতিলের কথা তুলে ধরেন। তিনি লেখেন, “গত কয়েক সপ্তাহ ধরে আমাকে নিয়ে নানা জল্পনা তৈরি হয়েছে। এখন বিষয়টি পরিষ্কার করার প্রয়োজন মনে করছি। আমি ব্যক্তিগত জীবনকে সবসময় আড়ালে রাখতে চাই। তবে জানাতে বাধ্য হচ্ছি বিয়ে আর হচ্ছে না। এই মুহূর্তে উভয় পরিবারের গোপনীয়তাকে সম্মান করার অনুরোধ করছি। আমরা যেন নিজেদের মতো করে সময় নিতে পারি।”
পলাশও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ক্ষোভ প্রকাশ করে সামনে এগিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন। বিয়ে ভেঙে গেলেও দুজনকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ থামেনি। তবে ব্যক্তিগত জীবনকে ছাপিয়ে খেলাকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছেন স্মৃতি। তার ভাষায়, “ক্রিকেট ছাড়া এমন আর কিছু নেই যা আমাকে এতখানি টানে। ভারতের জার্সি পরা আমাদের কাছে প্রেরণার উৎস, যা সব দুঃশ্চিন্তা দূরে সরিয়ে মনকে খেলায় কেন্দ্রীভূত হতে সাহায্য করে।”
২০১৩ সালে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পা রাখার পর অনেক রেকর্ড গড়েছেন বাঁহাতি এই ব্যাটার। ছোটবেলা থেকেই ক্রিকেটের প্রতি ছিল গভীর টান। অ্যামাজনের এক সাক্ষাৎকারে স্মৃতি বলেন, “শিশু বয়স থেকেই ব্যাট হাতে নেমে পড়ার জন্য এক ধরনের উন্মাদনা ছিল। অনেকেই বুঝত না, কিন্তু আমার ভেতরেই ছিল সেই তাড়না। সবসময় চেয়েছি আমাকে যেন একদিন বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বলা হয়।”
তার কথায়, বিশ্বকাপ জয়ের পথটা সহজ ছিল না। “অনেক বছর ধরে যে লড়াই, তারই পূর্ণতা এই শিরোপা। আমরা দীর্ঘদিন ধরে এটি পাওয়ার অপেক্ষায় ছিলাম। ১২ বছরের ক্যারিয়ারে সবসময় মনমতো হয়নি। ফাইনালের আগে আমরা আগের মুহূর্তগুলো মনে করার চেষ্টা করেছি। স্ক্রিনে যখন তা দেখলাম, মনে দারুণ শক্তি ফিরে আসে। এটি জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত অথচ বিশেষ অভিজ্ঞতা।”
বিশ্বকাপ শিরোপা হাতে পাওয়ার পরে মিতালি রাজ ও ঝুলন গোস্বামীর মতো কিংবদন্তিদের উপস্থিতি তার আবেগকে আরও গভীর করেছে। স্মৃতি বলেন, “আমরা তাদের জন্যই এই ট্রফিটা জিততে চেয়েছিলাম। তাদের চোখে অশ্রু দেখেই বুঝেছি নারী ক্রিকেটই আজ জিতেছে। তাদের স্বপ্নেরও একটা প্রতিফলন মিলেছে। ক্রিকেটে আপনি প্রতিটি ইনিংস শূন্য রান থেকে শুরু করেন এর আগে কত সেঞ্চুরি করেছেন তা বিবেচ্য নয়। আর এই খেলাটা শুধু নিজের নয় এই ভাবনাই আমাদের সবসময় অনুপ্রাণিত করে।”





