বুধবার, ২৯ এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

থানায় অভিযোগের পরও রক্ষা পেল না নাদিয়া

জুম্মান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :  
যশোরের রামকৃষ্ণপুরে বখাটে প্রেমিকের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করেও প্রাণে বাঁচতে পারেনি ইছালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী নাদিয়া আক্তার (১৫)। ৮ ডিসেম্বর গভীর রাতে প্রেমিক নাজমুলের বাড়ির পাশের একটি গাছে তার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। পরে ৯৯৯–এ ফোন করলে পুলিশ এসে লাশ উদ্ধার করে।
পরিবারের দাবি, এটি আত্মহত্যা নয় নাদিয়াকে মারধর করে হত্যা করা হয়েছে এবং ঘটনাটিকে লুকোতেই মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখা হয়। পরিবার, স্থানীয় ও থানা সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় তিন বছর ধরে একই গ্রামের নাজমুল হোসেনের (২৭) সঙ্গে নাদিয়ার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। সম্পর্কের সুযোগ নিয়ে নাজমুল বিয়ের প্রতিশ্রুতি দেখিয়ে বিভিন্ন স্থানে নিয়ে নাদিয়ার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক গড়ে তোলে এবং সেই সময় ধারণ করা অন্তরঙ্গ ভিডিও মোবাইলে সংরক্ষণ করে।
পরে বিয়ের কথা তুললে নাজমুল ও তার সহযোগীরা ওই ভিডিও বিভিন্ন মানুষের কাছে ছড়িয়ে দেয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ব্ল্যাকমেইলের মাধ্যমে ২ লাখ টাকা দাবি করা হয় এবং ইতোমধ্যে ৭০ হাজার টাকাও আদায় করেছে বলে নাদিয়া থানায় দেওয়া অভিযোগে উল্লেখ করে। গত ২৬ অক্টোবর নাদিয়া কোতোয়ালি থানায় নাজমুল ও তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে ভিডিও ছড়িয়ে দেওয়া, হুমকি–ধামকি, ব্ল্যাকমেইল, অপমান ও সামাজিকভাবে হেয় করার অভিযোগ তোলা হয়।
তবে স্থানীয়ভাবে “সমাধান” হয়েছে বলে জানানো হওয়ায় পুলিশ আর কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। পরিবারের দাবি অভিযোগ দেয়ার পর নাজমুলপক্ষ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নাদিয়া ও তার পরিবারকে আরও বেশি ভয়ভীতি দেখায়। ৮ ডিসেম্বর সন্ধ্যার পর থেকে নাদিয়াকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না। স্থানীয়দের বক্তব্য অনুযায়ী, মধ্যরাতের দিকে নাজমুলের বাড়ির পাশের একটি গাছে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ ঝুলতে দেখা যায়। মরদেহের পা মোড়ানো থাকায় এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে মনে করছে এলাকাবাসী।
নাদিয়ার চাচা লোকমান বাঙালি জানান, বিয়ের দাবি নিয়ে সেদিন রাতে নাদিয়া নাজমুলের বাড়িতে গিয়েছিল। সেখানে নাজমুলের ভাই ও পরিবারের অন্য সদস্যরা তাকে পিটিয়ে হত্যা করে বলে অভিযোগ তাদের। পরে এটিকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়।
যশোর কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক (তদন্ত) কাজী বাবুল হোসেন বলেন, “৯৯৯–এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে। প্রেমঘটিত ঘটনার জের ধরে নাদিয়ার মৃত্যু হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। এটি হত্যা নাকি আত্মহত্যা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে।”
তিনি জানান, দু’মাস আগে নাদিয়ার অভিযোগ থানায় জমা পড়েছিল। স্থানীয়রা দাবি করায় যে অভিযোগের সমাধান হয়েছে, তাই তদন্ত আর এগোয়নি। তবে হত্যার প্রমাণ পাওয়া গেলে জড়িতদের অবশ্যই গ্রেপ্তার করা হবে।
শেয়ার করুন