বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

পুরুষদের জন্য মাত্র ৪ ঘণ্টার ঘুম: বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বৃদ্ধি

অল্প ঘুম বা রাতভর ঘুম না হওয়া শুধুই ক্লান্তির কারণ নয়, বরং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজেও প্রভাব ফেলে। অনেক পুরুষই কাজের চাপ বা উদ্বেগের কারণে রাতের পর রাত কম ঘুমে কাটাচ্ছেন। কখনও অফিসের অতিরিক্ত কাজ, আবার কখনও মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভি স্ক্রিনের সামনে দীর্ঘ সময় বসে থাকায় ঘুমের সময় নষ্ট হচ্ছে। ফলে ঘুমের ধরণ প্রতিদিন বদলাচ্ছে এবং শরীরের ‘জৈবিক ঘড়ি’ ঠিকমতো কাজ করতে পারছে না।

শরীরের ভিতরে থাকা এই জৈবিক ঘড়ি বা ‘সার্কাডিয়ান রিদম’ ২৪ ঘণ্টার মধ্যে নানা শারীরবৃত্তীয় প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করে। এটি হরমোনের ক্ষরণ, শারীরিক শক্তি, খাবারের ক্ষুধা ও ঘুমের ছন্দ ঠিক রাখে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষকরা দেখেছেন, মস্তিষ্কের হাইপোথ্যালামাসের ভেতরে অবস্থিত ‘সুপ্রাকিয়াসম্যাটিক নিউক্লিয়াস’ হলো শরীরের কেন্দ্রীয় ঘড়ি। এটি বাইরের সময়চক্রের সঙ্গে মিল রেখে শরীরের হরমোন এবং শারীরিক কাজ নিয়ন্ত্রণ করে।

যদি রাতের ঘুম কমানো হয় এবং শরীরের ছন্দ বিঘ্নিত হয়, তাহলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য নষ্ট হতে পারে। বিশেষ করে পুরুষদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ টেস্টোস্টেরন হরমোনের ক্ষরণ ব্যাহত হয়। হার্ভার্ডের গবেষণায় দেখা গেছে, যেসব পুরুষ প্রতিদিন মাত্র ৪ ঘণ্টা ঘুমান, তাদের শরীরে টেস্টোস্টেরনের মাত্রা কমে যায়। এটি শুক্রাণুর উৎপাদন ও মান কমিয়ে দেয় এবং বন্ধ্যত্বের ঝুঁকি বাড়ায়।

কম ঘুম শুধু টেস্টোস্টেরন নয়, কর্টিসল বা ‘স্ট্রেস হরমোন’ বাড়াতেও সহায়ক। কর্টিসল বাড়লে টেস্টোস্টেরনের ক্ষরণ আরও কমে যায় এবং ‘অবস্ট্রাকটিভ স্লিপ অ্যাপনিয়া’র ঝুঁকি বেড়ে যায়। এই অবস্থায় ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হয়ে যায়, প্রদাহ বাড়ে এবং অনিদ্রা সৃষ্টি হয়। দীর্ঘ সময় ঘুমের ছন্দ বিঘ্নিত থাকলে টাইপ-২ ডায়াবেটিস, স্থূলতা, হৃদরোগ ও ক্যানসারের ঝুঁকিও বেড়ে যেতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন, প্রতিরাতে পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করতে অন্তত ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমানো উচিত। যদি ঘুম ঠিকমতো আসে না, তবে মেডিটেশন বা শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ঘুমের অভ্যাস ধরে রাখলে শরীরের হরমোনের ভারসাম্য বজায় থাকে এবং স্বাস্থ্যের ঝুঁকি অনেকটা কমে আসে।

শেয়ার করুন