অপু দাস, স্টাফ রিপোর্টার :
পবা উপজেলায় দিনব্যাপী বিভিন্ন কর্মসূচির মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। এবারের প্রতিপাদ্য ছিল “দুর্নীতির বিরুদ্ধে তারুণ্যের ঐক্য: গড়বে আগামীর শুদ্ধতা।” সকাল থেকেই উপজেলা পরিষদ চত্বরজুড়ে এ দিবসকে কেন্দ্র করে সৃষ্টি হয় সচেতনতার উজ্জীবিত পরিবেশ।
জাতীয় সংগীত পরিবেশন এবং জাতীয় পতাকা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের পতাকা উত্তোলনের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির উদ্বোধন হয়। পরে বেলুন ও ফেস্টুন উড়িয়ে দিবসটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরাফাত আমান আজিজ।
সকাল সাড়ে ৯টায় উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে উপজেলা পরিষদ চত্বরে অনুষ্ঠিত হয় মানববন্ধন। এতে সরকারি কর্মকর্তা কর্মচারী, বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের কর্মী থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষও অংশ নেন। ‘দুর্নীতি মুক্ত দেশ চাই’, ‘না করি না সহি দুর্নীতি’ এমন সচেতনতামূলক স্লোগানে মানববন্ধন ঘিরে উৎসাহ ছড়িয়ে পড়ে।
পরে উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত আলোচনা সভায় বক্তারা দুর্নীতির ক্ষতিকর প্রভাব ও প্রতিরোধের উপায় তুলে ধরেন। ইউএনও আরাফাত আমান আজিজ বলেন, সমাজের প্রতিটি স্তরে নৈতিকতা ও দায়িত্বশীলতার চর্চা বাড়াতে পারলেই দুর্নীতি কমে আসবে। তিনি স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনসচেতনতাকে সবচেয়ে কার্যকর হাতিয়ার হিসেবে উল্লেখ করেন।
সভায় সভাপতিত্ব করেন উপজেলা দুর্নীতি প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি আখতার ফারুক। তিনি বলেন, নৈতিক শিক্ষা ও সামাজিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে না পারলে দুর্নীতির শেকড় কাটানো কঠিন। মানুষের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ওপরও তিনি গুরুত্বারোপ করেন।
আলোচনায় অংশ নেন কমিটির বিভিন্ন পর্যায়ের সদস্য, মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয় সমাজকর্মীরা। তারা বলেন, দুর্নীতি শুধু আইন দিয়ে নির্মূল করা যাবে না; প্রয়োজন ধারাবাহিক শিক্ষামূলক উদ্যোগ, তরুণদের সম্পৃক্ততা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলা।
সবশেষে উপস্থিত সবাই দুর্নীতিবিরোধী শপথ গ্রহণ করেন ব্যক্তিগত, সামাজিক ও পেশাগত জীবনে দুর্নীতিকে ‘না’ বলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তারা।
দিনব্যাপী কর্মসূচিতে উপস্থিতদের বিশ্বাস, পবা উপজেলায় গড়ে ওঠা এই সচেতনতার ধারা ভবিষ্যতে দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তারা আশা প্রকাশ করেন সম্মিলিত প্রচেষ্টা থাকলে একটি স্বচ্ছ, ন্যায়ভিত্তিক ও উন্নত বাংলাদেশ গড়া সম্ভব।





