জুম্মান হোসেন, যশোর প্রতিনিধি :
যশোরে মধ্যরাতে তানভীর হাসান (২২) হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল, ছোটনের মোড়ের সন্ত্রাসী মুসা, সাব্বিরসহ আটজনের বিরুদ্ধে কোতোয়ালি থানায় মামলা হয়েছে। একই সঙ্গে অজ্ঞাত আরও ৪–৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। মামলাটি করেছেন নিহত তানভীরের পিতা নাজির শংকরপুর এলাকার মিন্টু। মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে—এই হত্যার নির্দেশদাতা ছিলেন বাবুল কাউন্সিলর।
হত্যাকাণ্ডের পরপরই শনিবার গভীর রাতে পুলিশ চোপদারপাড়ার রবিউল ইসলামের ছেলে রাকিবুল ইসলাম স্বাক্ষর এবং বেলায়েত আলীর ছেলে সোনা মিয়াকে আটক করে। তবে পলাতক রয়েছে একই এলাকার আব্দুল্লাহর ছেলে অভি, মজিবরের ছেলে মানিক ও শংকরপুরের আল আমিন ওরফে চোর আলামিন। নিহত তানভীরের বিরুদ্ধেও হত্যাসহ পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মামলায় বাদী উল্লেখ করেন, তানভীর আগে মোটরসাইকেল গ্যারেজে কাজ করতেন এবং সম্প্রতি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। এর আগে তানভীরের বন্ধু আফজাল খুন হন। আফজাল হত্যাকাণ্ডে বাবুলসহ অন্য আসামিদের সম্পৃক্ততা ছিল বলে দাবি করা হয়েছে। ওই হত্যার প্রতিবাদ করায় বাবুলদের সঙ্গে তানভীরের বিরোধ বাড়তে থাকে।
বাদীর অভিযোগ, শনিবার রাত ১০টার দিকে বাবুল কাউন্সিলরের নেতৃত্বে আসামিরা তানভীরের বাড়িতে গিয়ে ভাঙচুর চালায় এবং হত্যার হুমকি দিয়ে চলে যায়। পরে রাত সাড়ে ১২টার দিকে শংকরপুর আনসার ক্যাম্পের পেছনে একা পেয়ে বাবুলদের নেতৃত্বে আসামিরা ধারালো অস্ত্র দিয়ে একের পর এক ছুরিকাঘাত ও চাপাতি কোপ দেয়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা উদ্ধার করে যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আলমগীর হোসেন জানান, আটক দুই আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রোববার সন্ধ্যায় আদালতে পাঠানো হলে বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। অন্য আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।





