ওপেনএআই সম্প্রতি জানিয়েছে, তাদের ৮০০ মিলিয়ন ব্যবহারকারীর মধ্যে মাত্র ০.১৫ শতাংশই প্রতি সপ্তাহে চ্যাটজিপিটির সঙ্গে আবেগনির্ভর কথোপকথনে লিপ্ত হন। যদিও সংখ্যাটি খুবই কম, এর সমতুল্য প্রায় ১.২ মিলিয়ন মানুষ।
ম্যাশেবল প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই ধরনের ব্যবহারকারীরা প্রায়শই চ্যাটজিপিটিকে মানুষের মতো বন্ধু মনে করেন, যা তাদের একাকীত্ব বাড়াতে পারে এবং প্রযুক্তির ওপর মানসিক নির্ভরতা তৈরি করে। এর ফলে তাদের সামাজিক সংযুক্তি কমে যেতে পারে।
ওপেনএআই জানিয়েছে, ডিফল্ট মডেল ব্যবহারকারীদের বাস্তব জীবনের গুরুত্ব বোঝাতে উৎসাহিত করে। তবে বাস্তবতা হলো, চ্যাটজিপিটি সব সময় ব্যবহারকারীর প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত থাকে। অনেকে যেকোনো সমস্যা নিয়ে চ্যাটজিপিটির কাছে প্রশ্ন করেন, যা অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি করতে পারে। ইতিমধ্যেই কিছু পরিবার এমন প্রভাবের কারণে মামলাও করেছেন।
এআই বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, চ্যাটবট ব্যবহারে নিরাপদ থাকতে হলে স্পষ্ট সীমারেখা থাকা জরুরি এবং প্রযুক্তি সম্পর্কে সচেতন থাকা আবশ্যক।
প্রশিক্ষক ও উদ্যোক্তা জে বিদ্যার্থী বলেন, “প্রযুক্তির ভাষা বোঝা ব্যবহারকারীর জন্য গুরুত্বপূর্ণ। চ্যাটবটের ভাষা বুঝলে মানুষ নিজের চিন্তাকে নিয়ন্ত্রণ করে নিরাপদভাবে এআই ব্যবহার করতে পারবে। প্রযুক্তির সঙ্গে নিরাপদ সম্পর্ক রাখা যেমন সম্ভব, তেমনি চ্যাটবটের সাথেও রাখা সম্ভব।”
নিম্নে চ্যাটবট ব্যবহারকে নিরাপদ রাখার ৫টি উপায় তুলে ধরা হলো:
১) এআই চ্যাটবটের ভাষা বোঝা:
চ্যাটজিপিটি মানুষের মতো আবেগময় প্রতিক্রিয়া দেখায়, কিন্তু এটি সচেতন নয়। ব্যবহারকারী যদি ভুলভাবে চ্যাটবটকে বন্ধু মনে করেন, তা বিপজ্জনক হতে পারে। বিদ্যার্থী বলেন, “চ্যাটবট কথোপকথনের পরবর্তী শব্দ অনুমান করে উত্তর তৈরি করে। মাঝে মাঝে ভুল তথ্যও দিতে পারে। তাই ভাষা বোঝা খুব জরুরি।”
২) এআই দিয়ে কাজ করানো, চিন্তা নয়:
এআই বিশেষজ্ঞ সল রাশিদি বলেন, “আমি এআইকে আমার পরিবর্তে ভাবতে দিই না। শুধুমাত্র সময়সাপেক্ষ বা বিরক্তিকর কাজ দ্রুত করতে ব্যবহার করি। নিজের চিন্তার নিয়ন্ত্রণ এআইকে দিতে নেই।”
৩) প্রশ্ন করার আগে নিজে ভাবা:
ড. রেনে রিচার্ডসন গসলাইন বলেন, “যদি সিদ্ধান্ত নেওয়া এআইর ওপর ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে নিজের চিন্তার ক্ষমতা কমে যায়। প্রথমে নিজে ভাবুন, তারপর এআইয়ের মতামত নিন।”
৪) প্রশংসার জন্য নয়, প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য ব্যবহার:
চ্যাটবট সবসময় ব্যবহারকারীর মত সমর্থন করে। গসলাইন বলেন, “এটি একটি স্লাইডের মতো, নামা সহজ কিন্তু ওঠা কঠিন। তাই চ্যাটবট ব্যবহার করুন তথ্য পেতে, নিজের প্রশংসা শুনতে নয়।”
৫) কথোপকথনের সময় সচেতন থাকা:
বিদ্যার্থী বলেন, “যদি টানা চ্যাটবটের সঙ্গে কথা বলার প্রবণতা হয়, সেটি সতর্ক সংকেত। বোঝার চেষ্টা করুন—বট কেন অতিরিক্ত উৎসাহ দেখাচ্ছে? কথায় আপনার অনুভূতি কী?” তিনি মনে করান, চ্যাটবটকে একটি স্মার্ট জার্নাল হিসেবে দেখুন; তথ্য দেবে, কিন্তু সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত আপনাকেই নিতে হবে।
সল রাশিদি আরও বলেন, “এআইয়ের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা মানুষকে নিজে চিন্তা করা থেকে বিরত রাখে। নিরাপদ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সচেতন থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”





