ছবি : এআই
শীতকালে টক-মিষ্টি ও ঝাল চাট খাওয়ার প্রতি আকর্ষণ বাড়লেও, বাজারের চাট প্রায়শই ভাজাভুজি এবং অস্বাস্থ্যকর উপকরণের মিশ্রণে তৈরি হয়। তাই এই মরসুমে সুস্থভাবে চাট খাওয়ার জন্য রাঙা আলু ব্যবহার করতে পারেন। রাঙা আলু শুধু স্বাস্থ্যকর নয়, বরং সহজে হজমও হয় এবং শরীরকে পর্যাপ্ত শক্তি জোগায়।
মুম্বইয়ের পুষ্টিবিদ রোহিনী পাটিল বলেন, “শীতকালে তাপমাত্রা কমে। শরীরের তাপমাত্রা বজায় রাখতে অতিরিক্ত শক্তি ব্যবহার হয়। সেই কারণে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কমতে পারে এবং হজম প্রক্রিয়া ধীর হয়ে যায়। রাঙা আলু শরীরকে শক্তি জোগায়, হজম সহজ হয় এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে অনিয়মিত খাওয়ার প্রবণতা কমে।”
রাঙা আলু শীতকালের ডায়েটে রাখার সুবিধা:
১) ওজন নিয়ন্ত্রণে: রাঙা আলুতে প্রচুর ফাইবার থাকে, যা ধীরে ধীরে হজম হয়। ফলে দীর্ঘ সময় পেট ভরা থাকে এবং অনিয়মিত খাওয়ার প্রবণতা কমে। এছাড়া এটি কোষ্ঠকাঠিন্য কমাতেও সহায়ক।
২) শিশুদের জন্য: মিষ্টি আলুতে রয়েছে বিটা ক্যারোটিন ও ভিটামিন এ, যা শিশুর দৃষ্টি ও মেধা বিকাশে সহায়তা করে। এছাড়া এতে ক্যালশিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, পটাশিয়াম, সোডিয়াম ও জিঙ্কের মতো খনিজ রয়েছে, যা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধি ও স্বাস্থ্য গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ।
৩) শক্তি বাড়াতে: রাঙা আলুতে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট থাকে। প্রতি ৩০০ গ্রাম আলু থেকে প্রায় ৫৮ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়, যা দ্রুত রক্তে শক্তি যোগ করে ক্লান্তি দূর করতে সাহায্য করে।
৪) রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি: বিটা ক্যারোটিন শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে সহায়তা করে। শীতকালে ফুসফুসজনিত সমস্যা এড়াতেও রাঙা আলু ডায়েটে রাখা ভালো।
৫) পেশি সচল রাখতে: রাঙা আলুর পটাশিয়াম শরীরের জল-সমতা বজায় রাখতে সাহায্য করে এবং পেশির কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে।
রাঙা আলুর চাট বানানোর পদ্ধতি:
১. রাঙা আলু সেদ্ধ করে খোসা ছাড়িয়ে ছোট টুকরো করুন।
২. সামান্য তেলে আলুর টুকরোগুলি লালচে করে ভেজে নিন।
৩. আলুর মধ্যে পাতিলেবুর রস, চাট মশলা, ভাজা জিরে গুঁড়ো, লঙ্কা গুঁড়ো ও কুচি ধনেপাতা মিশিয়ে নিন।
৪. শেষে স্বাদ অনুযায়ী নুন, কাঁচা লঙ্কা কুচি ও ধনেপাতা কুচি যোগ করুন। চাট প্রস্তুত।
শীতকালে রাঙা আলু ব্যবহার করে এই চাট সুস্বাদু হওয়া ছাড়াও স্বাস্থ্যকর। এটি শরীরকে শক্তি জোগায়, হজম সহজ করে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, ফলে ভাজাভুজি ও অস্বাস্থ্যকর খাবারের প্রতি আকর্ষণ কমে।





