রণবীর কপূরের সঙ্গে সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার পর মানসিকভাবে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন ক্যাটরিনা কইফ। সেই সময় তিনি বারবার বলছিলেন, তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় ভুল হয়ে গেছে এবং তার জেরেই কাজ হারাতে বসেছেন তিনি। শুধু প্রেমের সম্পর্ক নয়, নিজের অভিনয়জীবনও যেন বিপদের মুখে এমনই আশঙ্কা তাঁকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল। সম্প্রতি এক প্রবীণ সাংবাদিক সেই সময়ের অজানা অধ্যায় সামনে এনেছেন। বিচ্ছেদের পরে ক্যাটরিনা কী ভীষণ ভেঙে পড়েছিলেন, তা বিস্তারিতভাবেই প্রকাশ্যে এসেছে।

‘অজব প্রেম কি গজব কহানি’ ছবির শুটিং চলাকালীনই রণবীর ও ক্যাটরিনার ঘনিষ্ঠতা শুরু হয়। পর্দার রসায়ন বাস্তব জীবনেও রূপ নেয় প্রেমের সম্পর্কে। কিন্তু সেই সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত স্থায়িত্ব পায়নি। ওই সাংবাদিকের কথায়, একদিন যশরাজ ফিল্মসের স্টুডিয়োয় ক্যাটরিনার সাক্ষাৎকার নিতে গেলে তাঁকে অসংযত কান্নায় ভেঙে পড়তে দেখা যায়। তিনি তখন একই কথা বারবার বলছিলেন নিজের ভুল সিদ্ধান্তের কারণে তাঁর কাজ কমে যাচ্ছে এবং সেই অবস্থার জন্য তিনি নিজেই দায়ী। রণবীরের প্রতি ক্যাটরিনার টান ছিল গভীর। কিন্তু তাঁদের সম্পর্কে পরস্পরের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল। সেই কারণেই সম্পর্কটি ভেঙে যায়। বিচ্ছেদের দিন ক্যাটরিনা নাকি বলেছিলেন, তাঁরা আর একসঙ্গে নেই, কিন্তু সেই সম্পর্কের জন্য তিনি নিজের কেরিয়ারকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন।

সম্প্রতি একটি পডকাস্টে ওই সাংবাদিক আরও জানান, ক্যাটরিনার মনে তখন এমন ধারণা তৈরি হয়েছিল যে, রণবীরকে বিয়ে করলে তিনি কপূর পরিবারের সদস্য হবেন। তাঁর বিশ্বাস ছিল, সেই পরিবারের বৌদের সাধারণত অভিনয় চালিয়ে যেতে দেওয়া হয় না। সেই ভাবনা থেকেই তিনি হাতে থাকা বেশ কয়েকটি ছবির প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। পরে যখন পরিস্থিতি বদলে যায়, তখন সেই সিদ্ধান্ত নিয়েই তিনি সবচেয়ে বেশি হতাশ হয়ে পড়েন।
রণবীরের সঙ্গে বিচ্ছেদ-পর্ব ক্যাটরিনার জীবনে মোটেও সহজ ছিল না। মানসিক ক্ষত কাটিয়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে তাঁর দীর্ঘ সময় লেগেছিল। ধীরে ধীরে তিনি নিজেকে সামলে নেন এবং পরে রণবীরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও সহকর্মী ভিকি কৌশলের সঙ্গে সম্পর্কে জড়ান। ২০২১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভিকির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয়। চলতি বছরের ৭ নভেম্বর তাঁদের সংসারে পুত্রসন্তান জন্ম নিয়েছে।





