প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ, উৎসবমুখর এবং ঐতিহাসিক হবে—এ নিয়ে জাতি গর্ব করবে।
বুধবার (৩ ডিসেম্বর) মিরপুর সেনানিবাসে ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স (এনডিসি) ও আর্মড ফোর্সেস ওয়ার কোর্স (এএফডব্লিউসি)-২০২৫-এর সমাপনীতে তিনি এসব কথা বলেন। একই অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহাসিক ভূমিকা পালনের আহ্বান জানান এবং জাতীয় নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও জনগণের পাশে থাকার ক্ষেত্রে বাহিনীর অবদানের প্রশংসা করেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “আগামী ফেব্রুয়ারির নির্বাচন শান্তিপূর্ণ ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে। ভোটাররা যখন ভোট দিতে আসবেন, তা হবে উৎসবের মতো, এবং জাতি গর্বের সঙ্গে স্মরণ করবে এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে।”
সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও জাতি গঠনে আপনাদের অবদান প্রশংসনীয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং মহামারির মতো সংকটে আপনারা জনগণের পাশে দাঁড়িয়ে যে দায়িত্ব পালন করেছেন, তা অনন্য।”
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশের ভূমিকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আপনাদের অংশগ্রহণ বৈশ্বিক শান্তিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে এবং দেশের আন্তর্জাতিক মর্যাদা বাড়িয়েছে।”
বক্তব্যের শুরুতে তিনি মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। বলেন, “ডিসেম্বর আমাদের বিজয়ের মাস। আমরা সকল শহীদ ও মুক্তিযুদ্ধে অবদান রাখা মানুষদের শ্রদ্ধা জানাই।”
তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে নিহত ও আহতদের প্রতিও সম্মান জানান এবং বলেন, “শিক্ষার্থীসহ সকল দেশবাসীর প্রতি গভীর শ্রদ্ধা, যারা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নে নিজেদের উৎসর্গ করেছেন।”
বিএনপি চেয়ারপার্সন খালেদা জিয়ার দ্রুত আরোগ্য কামনা করে তিনি দেশবাসীকে দোয়ার আহ্বান জানান।
গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্নকারী অফিসারদের অভিনন্দন জানিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, “এই অর্জন বছরের পর বছর পরিশ্রমের ফল। এখন আপনারা উচ্চতর দায়িত্ব পালনে প্রস্তুত, যা রাষ্ট্র পরিচালনা, নীতি নির্ধারণ, নিরাপত্তা, কৌশল এবং উন্নয়ন বোঝার সক্ষমতা দেবে।”
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের লক্ষ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, “এ প্রতিষ্ঠান এমন নেতৃবৃন্দ তৈরি করে যারা জটিল ও পরিবর্তনশীল ভূ-রাজনৈতিক পরিবেশে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে পারবেন।”
তিনি আরও বলেন, “বিশ্ব অর্থনৈতিক কেন্দ্র এশিয়ার দিকে সরছে। এশিয়ায় বাংলাদেশের কৌশলগত অবস্থান অসাধারণ সুযোগ এনে দিচ্ছে। ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের দায়িত্ব—এই ভৌগোলিক সুবিধা কাজে লাগিয়ে টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করা।”
ন্যাশনাল ডিফেন্স কোর্স সম্পর্কে তিনি বলেন, “এটি জাতীয় নিরাপত্তা বিশ্লেষণ, কৌশলগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং নেতৃত্বের সক্ষমতা বাড়ায়।”
আর এএফডব্লিউসি সম্পর্কে বলেন, “এই কোর্স কৌশলগত ও অপারেশনাল স্তরের সমন্বয় শেখায়। সন্ত্রাসবাদ, জলবায়ু পরিবর্তন, সাইবার হুমকির মতো বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আপনাদের গভীর আলোচনা ও বিশ্লেষণ হয়েছে।”





