সোমবার, ২ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ভোজ্যতেলের দাম বাড়ানোর কোনো আইনগত ভিত্তি নেই: বাণিজ্য উপদেষ্টা

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসায়ীরা যেভাবে ভোজ্যতেলের মূল্য বাড়িয়েছেন, তার পক্ষে কোনো আইনগত ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। বুধবার (৩ ডিসেম্বর) সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “তেলের দাম বাড়ানোর বিষয়ে সরকার আগে কিছুই জানত না। মাত্র আধা ঘণ্টা আগে আমরা বিষয়টি জেনেছি। কোম্পানিগুলো সম্মিলিতভাবে দাম বাড়িয়েছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।”

এ অবস্থায় সরকারের করণীয় কী—জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেব। কারণ এই সিদ্ধান্তের কোনো আইনগত ভিত্তি নেই।”

তিনি জানান, মঙ্গলবার ক্রয় কমিটিতে টিসিবির জন্য সয়াবিন তেল ৫০ লাখ লিটার এবং রাইস ব্রান তেল এক কোটি লিটার কেনার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বাজারে যে দামে তেল বিক্রি হচ্ছে, ব্যবসায়ীরা সরকারকে তার চেয়ে প্রায় ২০ টাকা কম দামে সরবরাহ করেছেন। “তাহলে বাজারে হঠাৎ ২০ টাকা বেশি দামে বিক্রি করার যৌক্তিকতা কোথায়?”—প্রশ্ন করেন উপদেষ্টা।

ব্যবসায়ীদের নিয়ন্ত্রণে সরকারের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “নিয়ন্ত্রণ আছে কি নেই, তা আমাদের পদক্ষেপ দেখলেই বুঝবেন।”

তিনি আরও বলেন, “ব্যবসায়ীদেরও প্রশ্ন করুন। আমরা প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেব। এটা মার্কেটে গিয়ে তলোয়ার নিয়ে লড়াই করার বিষয় নয়।”

আইন লঙ্ঘন হলে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না—প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, “অবশ্যই নেওয়া হবে। আইন অনুযায়ী যা করণীয় সবই করা হবে।”

সরকারের চেয়ে ব্যবসায়ীরা বেশি প্রভাবশালী হয়ে গেছে কি না—এমন প্রশ্নে তিনি বলেন, “এ ধরনের উত্তেজক ও ধারণা-নির্ভর প্রশ্নের উত্তর নেই।”

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, “যদি দাম বাড়ানোর যৌক্তিক কারণ থাকে, আমরা আলোচনা করতে প্রস্তুত। আমরা সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখতে চাই, বাধাগ্রস্ত করতে চাই না।”

এদিকে ভোজ্যতেল ব্যবসায়ীদের অ্যাসোসিয়েশন দাবি করেছে, দাম বাড়াতে মন্ত্রণালয় অথবা ট্যারিফ কমিশনের অনুমতি প্রয়োজন নেই। এ বিষয়ে বাণিজ্য সচিব বলেন, “ওটা তাদের বক্তব্য। আমরা সেটি স্বীকার করি না।”

রমজান প্রস্তুতি নিয়ে তিনি বলেন, “ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ, সবদিক থেকেই ভালো প্রস্তুতি রয়েছে। আমদানি পর্যায়ে আগের বছরের তুলনায় বেশি ঋণপত্র খোলার তথ্য পাচ্ছি, ফলে সরবরাহ ব্যবস্থায় কোনো বিঘ্ন হবে না।”

তিনি জানান, “চিনির দাম কমছে, ছোলার দামও কমবে। ডাল, ডিমসহ আরও কিছু পণ্যের দাম কমেছে। আমরা সবকিছু পর্যালোচনা করে যৌক্তিক সমাধানেই যাব; অযৌক্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে না।”

শেয়ার করুন