শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

রাজশাহীতে গৃহবধূ হত্যা মামলার মূল হোতা গ্রেফতার

অপু দাস ( স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী ):
রাজশাহীতে আলোচিত গৃহবধূ হত্যা মামলার প্রধান অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব–৫)। দীর্ঘ সময় আত্মগোপনে থাকার পর মঙ্গলবার দুপুরে নগরের আমচত্বর এলাকায় গোপন অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়। র‍্যাব জানায়, ছায়া তদন্ত ও নজরদারির ধারাবাহিকতায় মূল আসামি ইয়াসিন আলী জনি (৩২) অবশেষে ধরা পড়ে।
মৃত্যুর আগের দীর্ঘ নির্যাতন
মামলার তথ্য অনুসারে, নিহত গৃহবধূর বাড়ি শাহ মখদুম থানার ভুগরইল এলাকায়। প্রথম স্বামী ইয়াসিন আলীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর তিনি একই পরিবারের ইউনুস আলীর সঙ্গে শরিয়ামতে পুনরায় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। দ্বিতীয় বিয়ের পরও স্বামীর পরিবারের একাধিক সদস্যের কাছ থেকে তিনি নিয়মিত শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের শিকার হতেন বলে অভিযোগ।
চলতি বছরের ২৩ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে পরিকল্পিতভাবে গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয় বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর আসামিপক্ষ দ্রুতই বিষয়টিকে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে চালানোর চেষ্টা করে এবং ফোন করে নিহতের মাকে মৃত্যুসংবাদ দেয়। পরে ভিকটিমের পিতা ঘটনাস্থলে গিয়ে কন্যার মরদেহ দেখতে পান এবং পরিস্থিতি দেখে থানায় মামলা করেন।
হত্যার পর নেমে আসে উত্তেজনা
ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকায় সৃষ্টি হয় উত্তেজনা। সোশ্যাল মিডিয়া, অনলাইন সংবাদ মাধ্যম ও টেলিভিশনে বিষয়টি দ্রুত ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। নিহতের পিতা মোট ছয়জনকে এজাহারনামীয় ও চার থেকে পাঁচজনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে শাহ মখদুম থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা নং ০৮, তারিখ ২৪ অক্টোবর ২০২৫—ধারা ৩০২/৩৪।
মামলার পর আসামিরা সবাই গা–ঢাকা দেয়।
র‍্যাবের অভিযান ও মূলহোতার স্বীকারোক্তি
হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বিবেচনায় র‍্যাব–৫ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এবং ছায়া তদন্ত শুরু করে। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে ২ ডিসেম্বর দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে আমচত্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারনামীয় আসামি ইয়াসিন আলী জনিকে গ্রেফতার করা হয়।
জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে র‍্যাব জানায়। পরে তাকে শাহ মখদুম থানায় সোপর্দ করা হয়।
এই গ্রেফতারের মাধ্যমে মামলার তদন্ত নতুন গতি পাবে বলে আশা করছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
শেয়ার করুন