বুধবার, ২৪ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

গাজায় ইসরাইলি হামলায় সাংবাদিকসহ নিহত ৫

যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজায় ইসরাইলি হামলায় অন্তত পাঁচ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে রয়েছেন এক সাংবাদিক ও এক শিশু। আহত হয়েছেন আরও ১৫ জন।

মার্কিন-মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ট্যাংক ও ড্রোন থেকে একের পর এক হামলায় পরিস্থিতি অবনতি ঘটছে—বহুবার লঙ্ঘিত হচ্ছে যুদ্ধবিরতি। খবর টিআরটি ওয়ার্ল্ডের।

চিকিৎসা সূত্র জানায়, গাজা সিটির আল-তুফাহ এলাকায় ইসরাইলি গোলায় দুজন নিহত হন, যার মধ্যে একটি শিশু রয়েছে। আহত ১৫ জনকে আল-আহলি ব্যাপ্টিস্ট হাসপাতালে নেওয়া হয়। পূর্ব গাজার জায়তুন এলাকায় ইসরাইলি গুলিতে আরও একজন নিহত হয়েছেন।

পরে খান ইউনিসের কেন্দ্রীয় অংশে ড্রোন হামলায় ফটোসাংবাদিক মাহমুদ ওয়াদি নিহত হন। চিকিৎসকদের দাবি, তিনি এমন এলাকায় ছবি তুলছিলেন যা যুদ্ধবিরতি চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণাধীন নয়।

ওয়াদির বাবা ইসসাম বলেন, ‘মাহমুদ নিরাপদ এলাকায় কাজ করছিল… কিন্তু ইসরাইল কোনো প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করে না।’

গাজার আল-দারাজ স্কুলে ইসরাইলি গোলাবর্ষণে নারীসহ আরও ১৭ জন আহত হন। স্কুলটিতে বাস্তুচ্যুত মানুষ আশ্রয় নিয়েছিল। সিভিল ডিফেন্স জানায়, আল-তুফাহ এলাকায় আরও পাঁচজন আহত হয়েছেন এবং জাতিসংঘের সহায়তায় আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধার করা হয়েছে।

প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, বেইত লাহিয়ায় বহু ভবন ধ্বংস করা হয়েছে এবং অঞ্চলটি ইসরাইলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। গাজা সিটি, খান ইউনিস ও রাফাহও এখনো প্রধান লক্ষ্যবস্তু।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ১০ অক্টোবর যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরাইলি হামলায় অন্তত ৩৫৬ জন নিহত এবং ৯০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে মোট নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে, যাদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। আহত হয়েছেন এক লাখ ৭১ হাজারেরও বেশি।

গভর্নমেন্ট মিডিয়া অফিস জানায়, ওয়াদি নিহত হওয়ার পর গাজায় সাংবাদিক মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২৫৭ জনে। অভিযোগ উঠেছে—ইসরাইল সচেতনভাবেই ফিলিস্তিনি সাংবাদিকদের লক্ষ্য করে হামলা করছে।


শেয়ার করুন