বার্সেলোনার জার্সিতে ১০ নম্বর পেলেই তুলনা চলে আসে লিওনেল মেসির সঙ্গে। লা মাসিয়ার পণ্য, বাঁ পায়ের জাদু, একই পজিশনে খেলা—সব মিলিয়ে অনেকের চোখে লামিন ইয়ামাল যেন নতুন ‘মিনি মেসি’। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই বিশ্ব ফুটবলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে তিনি। তবে এসব তুলনা নিয়ে বরাবরই অস্বস্তিতে থাকেন স্প্যানিশ এই বিস্ময়। তার সোজাসাপ্টা কথা—‘আমি মেসি হতে চাই না, আমি নিজের পরিচয়েই ইতিহাস লিখতে চাই।’
১৫ বছর বয়সে বার্সার মূল দলে পা রাখার পর থেকেই যেভাবে রেকর্ড ভাঙছেন, তাতে তাকে ভবিষ্যৎ সুপারস্টার বলতেই হয়। তরুণ বয়সেই লা লিগা, ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, দুবার কোপা ট্রফি, গোল্ডেন বয়—সবই যোগ হয়েছে তার ক্যারিয়ারে। ২০২৫ সালের ব্যালন ডি’অরে দ্বিতীয় হওয়াও তার অসাধারণ ধারাবাহিকতার প্রমাণ। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, অপেক্ষা শুধু সময়ের; খুব শিগগিরই প্রথম ব্যালন ডি’অর জিততে পারেন ইয়ামাল।
তবুও সিবিএসকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ইয়ামাল স্পষ্ট করে বলেছেন—মেসি ফুটবল ইতিহাসের সর্বসেরা, তাকে তিনি গভীর সম্মান করেন। কিন্তু নিজেকে কখনোই মেসির পুনরাবৃত্তি হিসেবে দেখতে চান না। নিজের ধাঁচ, নিজের স্টাইল, নিজের পথ—এই তিনটিকেই তিনি সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন।
শৈশবে মেসির ড্রিবলিংয়ের চেয়ে পাসিং দক্ষতাই তাকে বেশি টানত। তার মতে, মেসির প্রতিটি পাস যেন গোলের মতো মূল্যবান ছিল। যদিও এখন মাঠে নামলে তিনি প্রতিপক্ষের তিন-চারজন রক্ষককে কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার সাহস দেখান বিন্দুমাত্র দ্বিধা ছাড়া। ইয়ামালের কথা—ডিফেন্ডার যতই থাকুক, ড্রিবল তিনি করবেই, কারণ আত্মবিশ্বাস তার প্রধান অস্ত্র। বল হারানোর ভয় নেই; বরং ঝুঁকি নিয়েই খেলতে পছন্দ করেন।
সংখ্যা কিংবা রেকর্ড নিয়ে মাথাব্যথা নেই তার। সবচেয়ে বড় লক্ষ্য—মাঠে আনন্দ খোঁজা আর দর্শককে মুগ্ধ করা। তিনি মনে করেন, অতিরিক্ত প্রত্যাশা খেলোয়াড়কে চাপের মধ্যে ফেলতে পারে, তাই তিনি নিজের খেলা উপভোগ করেই এগিয়ে যেতে চান। ফুটবলই নাকি তাকে সব দুশ্চিন্তা ভুলিয়ে দেয়।
চলতি মৌসুমে বার্সার হয়ে ১৪ ম্যাচে ৭ গোল ও ৭ অ্যাসিস্টই বলে দেয়, কেন তাকে ঘিরে এত আলোচনা। তার পারফরম্যান্সে ভর করেই রিয়াল মাদ্রিদকে পেছনে ফেলে শীর্ষে আছে বার্সেলোনা।
এখন ইয়ামালের পরবর্তী বড় স্বপ্ন—২০২৬ বিশ্বকাপ, যেখানে স্পেনের হয়ে নতুন অধ্যায় লিখতে চান তিনি।





