মিলন মাহমুদ, মানিকগঞ্জ :
অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ৩৯২ শতাংস জমির দখল প্রকৃত মালিকদের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে। পাকা, আধাপাকাসহ ৯ টি অবৈধ দখলকৃতদের বাড়ি উচ্ছেদ করা হয়েছে। তারা দালালদের খপ্পরে বিবাদযুক্ত জমি কিনে সর্বশান্ত। তারাও চান ন্যায় বিচার।
আদালতের নির্দেশে রবিবার (৩০ নভেম্বর) জমি পরিমাপ শেষে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে এবং লাল নিশানা টাঙিয়ে ওই জমির দখল বুঝিয়ে দেয়া হয়। হস্তান্তরকৃত জমি উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের দক্ষিন উলাইল মৌজায় অবস্থিত।
জমির প্রকৃত মালিক ও আদালত সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের লক্ষীপুর গ্রামের মৃত জিন্নত আলীর ছেলে দেলোয়ার হোসেন ও তার ভাইবোন এবং প্রতিবেশি লাল মিয়া ও তার শরিকদের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে একই ইউনিয়নের দক্ষিন উলাইল মৌজার ৩৯২ শতাংস জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধ চলছিল। এক পর্যায়ে লাল মিয়া, তার শরিক ও তাদের পূর্বপুরুষরা জমিটি জোরপূর্বক দখল করে নেয়। এবং পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন ব্যক্তির নিকট বিক্রি করে দেন তারা। অনেকেই বিরোধপূর্ণ জমি ক্রয় করে চাষাবাদ ও ঘরবাড়ী করে বসবাস করতে থাকে। এপ্রেক্ষিতে জমির বৈধ মালিকানা দাবি করে ২০০০ সালে লাল মিয়াসহ দখলদারদের বিরুদ্ধে সিংগাইর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতে দেওয়ানি মামলা দায়ের করেন। ২০১১ সালে দেলোয়ার হোসেন ও শরিকদের জমির বৈধ মালিক ঘোষণা করে মামলার রায় দেন আদালত। এই রায়ের বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষ আদালতে আপিল করলেও তা ২০১৫ সালে খারিজ হয়ে যায়। এরপর হাইকোর্টে আপিল করেও হেরে যান বিবাদী পক্ষ। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ১৭ নভেম্বর দখলীয় পরো ওয়ানা জারি করেন সিংগাইর সিনিয়র সিভিল জজ আদালতের বিচারক মোসাম্মৎ রুমী খাতুন। এরই প্রেক্ষিতে রবিবার (৩০ নভেম্বর) উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়। আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ করে প্রকৃত মালিকদের ৩৯২ শতাংস জমির দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এসময় উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: হাবেল উদ্দিন ও জেলা জজ আদালতের নাজির আব্দুর কাদের মোল্লাসহ থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
মামলার বাদী দেলোয়ার হোসেন বলেন, আদালতের রায়ে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দক্ষিন উলাইল মৌজায় আমাদের ৩৯২ শতাংস জমি দীর্ঘ ৭৫ বছর ধরে প্রতিপক্ষ লাল মিয়া ও তার শরিকরা জোর করে বংশপরম্পরায় জোরপূর্বক ভাবে ভোগদখল করে আসছিল। এই জমির জন্য আমার বাবা-মাসহ পরিবারের লোকজন মামলা-হামলাসহ অনেক জুলুম নির্যাতনের শিকার হয়েছি। উপায়ন্তর না পেয়ে ২০০০ সালে আদালতে মামলা করা হয়। ২৫ বছর মামলা করে আদালতের মাধ্যমে আমরা সেই জমি ফিরে পেয়েছি। ন্যায়বিচার পেয়ে আদালতের প্রতি কৃতজ্ঞ জানান তিনি।
উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো: হাবেল উদ্দিন বলেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ৩৯২ শতাংস জমি প্রকৃত মালিকদের বুঝিয়ে দেওয়া হয়।





