মঙ্গলবার, ৫ মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

হাসিনা–রেহানা–টিউলিপসহ ১৭ জনের প্লট দুর্নীতি মামলায় রায় আজ 

ছবি : সংগৃহীত

পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে প্লট বরাদ্দে জালিয়াতির অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তাঁর বোন শেখ রেহানা ও ভাগনি টিউলিপ সিদ্দিকসহ ১৭ জনের বিরুদ্ধে দুদকের করা মামলার রায় আজ দেওয়া হবে। ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এর বিচারক রবিউল আলম এ রায় ঘোষণা করবেন। মামলায় দোষী সাব্যস্ত হলে যুক্তরাজ্যে টিউলিপ সিদ্দিকের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ আরও চাপে পড়তে পারে, এমনটাই ধারণা করা হচ্ছে।

মামলার অন্যান্য আসামির মধ্যে আছেন জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পুরবী গোলদার, অতিরিক্ত সচিব অলিউল্লাহ, সচিব কাজী ওয়াছি উদ্দিন, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যানের পিএ আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, তন্ময় দাস, মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, মেজর (অব.) ইঞ্জিনিয়ার সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, সাবেক পরিচালক নুরুল ইসলাম, সহকারী পরিচালক মাজহারুল ইসলাম, উপপরিচালক নায়েব আলী শরীফ, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর একান্ত সচিব-১ মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন এবং সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ। এদের মধ্যে খুরশীদ আলম ইতোমধ্যে কারাগারে আটক রয়েছেন।

অভিযোগ অনুসারে, ক্ষমতার অপব্যবহার করে পূর্বাচলের ১০ কাঠা প্লট নেওয়ার অভিযোগে দুদকের উপপরিচালক সালাহউদ্দিন ১৩ জানুয়ারি মামলা দায়ের করেন। পরে তদন্ত শেষে ১০ মার্চ ১৭ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা আফনান জান্নাত কেয়া। ৩১ জুলাই আদালত অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন—এ মামলায় মোট ৩২ জন সাক্ষ্য দেন।

এর আগে ২৭ নভেম্বর পৃথক তিন মামলায় শেখ হাসিনাকে ২১ বছর, সজীব ওয়াজেদ জয়সহ পুতুলকে ৫ বছর করে কারাদণ্ড দেন অন্য একটি আদালত।

টিউলিপ সিদ্দিকের জন্য বাড়ছে চাপ

প্লট দুর্নীতি মামলায় টিউলিপ সিদ্দিক দোষী হলে তাঁর ব্রিটিশ এমপি পদ ছাড়ার চাপ আরও বাড়বে। এর আগে রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্প থেকে ৪ বিলিয়ন পাউন্ড আত্মসাতের অভিযোগে তদন্ত শুরু হওয়ার পর তিনি সিটি মিনিস্টারের পদ ছাড়তে বাধ্য হয়েছিলেন। এ অভিযোগ প্রথম প্রকাশ্যে আনে ডেইলি মেইল।

সংবাদমাধ্যমটি রোববার জানিয়েছে, নতুন মামলায় টিউলিপের বিরুদ্ধে রায় দেওয়া হলে তাঁর এমপি পদ নিয়ে ব্রিটেনে আবারও সমালোচনা তীব্র হতে পারে। গত বছর একই ধরনের চাপের মুখে পড়লেও এমপি পদ তিনি ধরে রাখতে সক্ষম হন। বর্তমানে তিনি যুক্তরাজ্যের হ্যাম্পস্টেড অ্যান্ড হাইগেট এলাকার এমপি।

এদিকে বাংলাদেশে মামলা পরিচালনার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন ব্রিটিশ আইনজীবী। তাদের দাবি—মামলাটির প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার ঘাটতি রয়েছে। এ নিয়ে তারা বাংলাদেশের হাইকমিশনের কাছে একটি চিঠিও পাঠিয়েছেন।

শেয়ার করুন