সোমবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২৫ খ্রিস্টাব্দ

দলীয় অনিয়ম ও অভ্যন্তরীণ সমস্যা তুলে এনসিপি নেতার পদত্যাগ

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) কেন্দ্রীয় কমিটির দক্ষিণাঞ্চল সংগঠকের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন আরিফুল ইসলাম তালুকদার। ২৮ নভেম্বর তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আহ্বায়কের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে গণঅভ্যুত্থানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও দল অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে পারেনি। ক্ষমতার অপব্যবহার, সিদ্ধান্তহীনতা, অনিয়ম ও সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলার কারণে তিনি আর দলের সঙ্গে কাজ চালিয়ে যেতে আগ্রহী নন।

আরিফুল লিখেছেন, প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক কমিটির সংগঠকের দায়িত্ব পাওয়ার সময় তার লক্ষ্য ছিল ২০১৮ ও ২০২৪ সালের আন্দোলনে সক্রিয় তরুণ দেশপ্রেমিকদের ঐক্যবদ্ধ করে নতুন রাজনৈতিক পরিবেশ সৃষ্টি করা। কিন্তু দলের নেতৃত্বের অদূরদর্শী ও হীনমন্য মনোভাব সেই সম্ভাবনাকে ব্যাহত করেছে।

তিনি অভিযোগ করেছেন, দলের কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কিছু সদস্য অস্বাভাবিকভাবে সম্পদের মালিক হয়েছেন, জুলাই আন্দোলনের সাফল্য নিজেদের মধ্যে বিভক্ত করেছেন এবং শরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি করেছেন। এতে জাতীয় ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং আন্দোলনের মূল চেতনা নষ্ট হয়েছে।

পদত্যাগপত্রে আরিফুল আরও উল্লেখ করেছেন, জুলাইয়ে আহতদের সঠিক তালিকা তৈরিতে অনিয়ম হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ রাষ্ট্রীয় ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদী আমলার প্রভাব অব্যাহত রয়েছে এবং গণহত্যার বিচারে কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি দেখা যায়নি। আওয়ামী লীগ, জাতীয় পার্টি ও ১৪ দলের সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধেও যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, গত তিনটি নির্বাচনে যেসব আমলা রাষ্ট্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, তারা এখনও নির্বাচন প্রস্তুতি নিয়ন্ত্রণ করছে। মাফিয়া-নিযুক্ত রাষ্ট্রপতির অধীনে সবকিছু পরিচালিত হলেও দল কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছে না।

আরিফুল দলের নেতৃত্বকে দায়ী করে উল্লেখ করেছেন, অভ্যুত্থানে ত্যাগ ও শ্রম দেওয়া ব্যক্তিদের স্বীকৃতি কেড়ে নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ গঠনের দায়িত্বও দল কার্যকরভাবে পালন করতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি দাবি করেছেন, জুলাই বিপ্লবে আন্তর্জাতিক যোগাযোগ স্থাপন এবং ‘মাফিয়ার পলায়ন’-এ তার প্রত্যক্ষ ভূমিকা ছিল, যা দলের নেতৃত্ব জানে না।

এছাড়া তিনি অভিযোগ করেছেন, এনসিপি দেশের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুভূতির প্রতি উদাসীন। দলের নিয়ন্ত্রণ এমন একটি গ্রুপের হাতে, যারা সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষের সংস্কৃতি ও অনুভূতিকে মান্য না করে বরং বিদ্বেষের বাতাবরণ সৃষ্টি করে।

পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেছেন, বাংলাদেশের প্রত্যাশায় ’২৪-এর গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন করেছেন। ভবিষ্যতে তরুণদের রাজনীতি পুনরায় জাগ্রত হলে আবারও রাজপথে একত্রিত হওয়ার আশা প্রকাশ করেছেন।

শেয়ার করুন