মঙ্গলবার, ৩ মার্চ, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

বিচারকের দক্ষতা, সাহস ও নিরপেক্ষতাই ন্যায়বিচারের ভিত্তি: মইনুল ইসলাম চৌধুরী

গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারির চেয়ারম্যান বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেছেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিচারকদের ব্যক্তিত্ব, দক্ষতা, সক্ষমতা, নিরপেক্ষতা এবং সাহসিকতা।

শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানে হোটেল আমারিতে আয়োজিত এক কর্মশালায় তিনি এসব মন্তব্য করেন। এই কর্মশালার আয়োজন করেছে গুমসংক্রান্ত কমিশন অব ইনকোয়ারি, সহযোগিতা করেছে ঢাকাস্থ জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়।

বিচারপতি মইনুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, “একজন বিচারককে প্রতিটি মামলায় সমান উদ্যম, কঠোরতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে বিচার করতে হবে। প্রতিদিন সকালে যখন তারা পোশাক পরিধান করবেন, তখন সংবিধানের মূল্যবোধ মনে রাখার চেষ্টা করতে হবে। আমাদের লক্ষ্য এমন একটি গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা যেখানে সব মৌলিক মানবাধিকার ও স্বাধীনতা নিশ্চিত থাকবে।”

তিনি বিচারকদের উদ্দেশে বলেন, “আসুন আমরা এমন একটি বিচারব্যবস্থা গড়ে তুলি, যেখানে দেশের যে কোনো নাগরিক ঢাকার ফেরিওয়ালা, খুলনার পোশাকশ্রমিক বা সিলেটের রিকশাচালক অদালতের প্রতি আস্থা রাখতে পারে। আমরা সবাই বিচার ব্যবস্থার প্রতি বিশ্বাসী হই।”

কমিশনের সদস্য হুমা খান বলেন, বিচারকদের পেশাদারিত্ব, দায়িত্বশীলতা ও নিরপেক্ষতা ন্যায়বিচার নিশ্চিতের জন্য অপরিহার্য। তিনি বলেন, গুমের ভিকটিম ও তাদের পরিবার সামাজিক চাপ ও মানসিক কষ্টের মুখোমুখি হচ্ছেন। মামলার তদন্তে জটিলতা ও প্রভাবশালী মহলের চাপ ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা সৃষ্টি করছে।

হুমা খান কমিশনের কার্যক্রমের প্রশংসা করে বলেন, “সার্বিকভাবে কমিশন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষভাবে কাজ পরিচালনা করছে। এজন্য কমিশনের চেয়ারম্যান, সদস্য এবং সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ।”

কর্মশালায় আরও বক্তব্য রাখেন কমিশনের সদস্যরা বিচারপতি মো. ফরিদ আহমেদ শিবলী, বিচারপতি মো. নূর খান এবং আইন ও বিচার বিভাগের সচিব লিয়াকত আলী মোল্লা।
ওয়ার্কিং সেশন পরিচালনা করেন সদস্য মো. সাজ্জাদ হোসেন, এবং সঞ্চালনা করেন সদস্য ড. নাবিলা ইদ্রিস।

অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন আদালত ও ট্রাইব্যুনালে কর্মরত প্রায় ৯০ জন বিচারক ও প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণ করেন।

শেয়ার করুন