গত কয়েক বছর ধরে বলিউড অভিনেতা সলমন খানকে বিভিন্ন সময় ভয় দেখিয়ে এসেছেন লরেন্স বিশ্নোই ও তাঁর গোষ্ঠীর সদস্যরা। ২০২৩ সালের ১৪ এপ্রিল ভোর সাড়ে চারটার কিছু আগে অভিনেতাকে হত্যার উদ্দেশ্যে তাঁর বাসার সামনে গুলি ছোড়া হয়। সেই বছরের এপ্রিলেই গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টের বাইরে গুলিবর্ষণের দায় নিজেরা স্বীকার করেছিলেন লরেন্স বিশ্নোই চক্রের লোকজন। ঘটনাটি নিয়ে তদন্ত দীর্ঘদিন ধরেই চলছিল। এবার সেই মামলায় আরও পাঁচ জন অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ‘মহারাষ্ট্র কন্ট্রোল অফ অর্গানাইজড ক্রাইম অ্যাক্ট’ (এমসিওসিএ)-এর অধীনে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করেছে আদালত।
গত কয়েক বছর ধরে বারবার আসা হুমকির ধারাবাহিকতায় ওই দিন দুই ব্যক্তি মোটরবাইকে করে হঠাৎ গ্যালাক্সি চত্বরে ঢুকে পাঁচ রাউন্ডের মতো গুলি ছোড়ে বলে অভিযোগ। তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা হয়। পরে তদন্তে জানা যায়, এই দুই জন ছাড়াও আরও তিন জন একই পরিকল্পনায় যুক্ত ছিলেন। তাঁদের বিরুদ্ধেও অভিযোগ দায়ের করা হয়। পাশাপাশি লরেন্স বিশ্নোই, আনমোল বিশ্নোই ও রোহিত গোধরাকে এই ঘটনার পর ‘ওয়ান্টেড’ ঘোষণা করা হয়েছিল। সম্প্রতি আনমোলকে যুক্তরাষ্ট্র থেকে আটক করে এনে দিল্লির তদন্তকারী সংস্থা হেফাজতে নেয়।
এ পাঁচ অভিযুক্ত পরে আদালতে নিজেদের নির্দোষ দাবি করে আবেদন জানান। তবে আদালতের গঠিত চার্জশিটে বলা হয়েছে, সলমন খানকে হত্যার জন্য লরেন্স বিশ্নোই গ্যাং পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্র করেছিল এবং মুম্বই জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে নিজেদের দাপট দেখানোই ছিল তাঁদের উদ্দেশ্য।
উল্লেখযোগ্য, ওই গুলিবর্ষণের ঘটনার পর সলমন খানের দীর্ঘ জবানবন্দি নেয় মুম্বই পুলিশ। ১৪ এপ্রিলের সকালে পশ্চিম বান্দ্রার গ্যালাক্সি অ্যাপার্টমেন্টে অভিনেতা তাঁর মা–বাবার সঙ্গে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বন্দুকধারীরা পাঁচ থেকে ছয় রাউন্ড গুলি করে পালিয়ে যায়। সলমন পরে জানিয়েছেন, গুলির শব্দে ঘুম ভেঙে তিনি বাইরে গিয়ে দেখেন, আক্রমণকারীরা ততক্ষণে সরে পড়েছে। তিনি আরও জানান, বারবার প্রাণের হুমকি, বাসায় হামলা এবং নিরন্তর আতঙ্কের মধ্যে থাকতে থাকতে তিনি ভীষণ ক্লান্ত হয়ে গিয়েছেন।





