বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যার: ফোনের গোপন হুমকি ও প্রতিরোধের উপায়

স্মার্টফোনে ম্যালওয়্যারের ঝুঁকি এবং প্রতিরোধের উপায়

আজকাল স্মার্টফোন আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অপরিহার্য অংশ হয়ে উঠেছে। অফিসের কাজ, ব্যাংকিং, অনলাইন শপিং, ছবি-ভিডিও তৈরি, সামাজিক যোগাযোগ—সবকিছুই এই একাধিক কাজে সক্ষম ডিভাইসের ওপর নির্ভরশীল। তবে এত সুবিধার সঙ্গে রয়েছে সাইবার হুমকির সম্ভাবনা, বিশেষ করে ম্যালওয়্যার আক্রমণের।

ম্যালওয়্যার কি? ম্যালওয়্যার হলো এমন একটি সফটওয়্যার যা ব্যবহারকারীর অনুমতি ছাড়াই ফোনে প্রবেশ করে। এটি বিভিন্নভাবে ক্ষতি করতে পারে—ব্যক্তিগত তথ্য চুরি, ফোনের ধীরগতি, হঠাৎ হ্যাং হওয়া, অনাকাঙ্ক্ষিত বিজ্ঞাপন প্রদর্শন বা আর্থিক ক্ষতি। সঠিকভাবে শনাক্ত ও প্রতিরোধ না করলে ফলাফল হতে পারে মারাত্মক।

ম্যালওয়্যার আক্রান্ত ফোনের সম্ভাব্য লক্ষণ

ব্যাটারির অস্বাভাবিক খরচ: ম্যালওয়্যার প্রায়শই ব্যাকগ্রাউন্ডে কাজ করে। হঠাৎ করে ব্যাটারি দ্রুত শেষ হয়ে গেলে সতর্ক থাকা জরুরি। ডেটা ব্যবহারের অস্বাভাবিক বৃদ্ধি: ম্যালওয়্যার প্রায়ই ইন্টারনেট ব্যবহার করে তথ্য প্রেরণ বা গ্রহণ করে। ডেটার হঠাৎ বৃদ্ধি সতর্কতার সংকেত হতে পারে। ফোনের ধীরগতি বা হ্যাং: অজানা প্রসেস বা র‌্যাম দখলের কারণে অ্যাপ খুলতে, স্ক্রল করতে বা টাইপ করতে দেরি হতে পারে।অজানা অ্যাপ বা হোমস্ক্রিন বিজ্ঞাপন: আপনার ইনস্টল করা হয়নি এমন অ্যাপ বা হঠাৎ বিজ্ঞাপন প্রদর্শিত হলে সতর্ক হোন।অস্বাভাবিক গরম হওয়া: ম্যালওয়্যার ব্যাকগ্রাউন্ড প্রসেসের মাধ্যমে ফোনকে অতিরিক্ত চাপ দেয়। দীর্ঘ ব্যবহারে যদি ফোন গরম হয়, এটি সতর্কতার লক্ষণ।অজানা কল বা মেসেজ: অটো কল বা অপ্রত্যাশিত মেসেজ আসা শুরু করলে সাবধান হোন; ম্যালওয়্যার কন্টাক্ট তথ্য অপব্যবহার করতে পারে।

ফোনে ম্যালওয়্যার আছে কি না শনাক্তের উপায়

সিকিউরিটি অ্যাপ ব্যবহার করুন: বিশ্বস্ত অ্যান্টিভাইরাস—যেমন গুগল প্লে প্রোটেক্ট, বিটডিফেন্ডার, নর্টন বা অ্যাভাস্ট—ফোন স্ক্যান করুন। অ্যাপ আনইনস্টল করুন: সেটিংস  অ্যাপস  ইনস্টলড অ্যাপস-এ গিয়ে অজানা বা অবাঞ্ছিত অ্যাপ মুছে দিন। সফটওয়্যার আপডেট করুন: পুরনো সিস্টেম বা অ্যাপের নিরাপত্তা দুর্বল থাকে। নিয়মিত অ্যান্ড্রয়েড বা আইওএস আপডেট চালান। ফ্যাক্টরি রিসেট: সব চেষ্টা ব্যর্থ হলে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা ব্যাকআপ নিয়ে ফোন রিসেট করুন।

ম্যালওয়্যার প্রতিরোধের কার্যকর কৌশল

অজানা লিঙ্কে ক্লিক করবেন না এবং অবিশ্বস্ত ওয়েবসাইট এড়িয়ে চলুন। শুধুমাত্র গুগল প্লে স্টোর বা অ্যাপ স্টোর থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করুন। নিয়মিত ফোন স্ক্যান এবং ব্যাটারি/ডেটা রিপোর্ট মনিটর করুন। সন্দেহজনক মেসেজ বা ইমেইলে ব্যক্তিগত তথ্য দেবেন না। লোকেশন, কন্টাক্টস বা স্টোরেজ পারমিশন অপ্রয়োজনীয় অ্যাপকে দেবেন না। ব্যাংকিং বা সামাজিক অ্যাপের নিরাপত্তার জন্য টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন ব্যবহার করুন। পাবলিক ওয়াইফাই ব্যবহার করলে ভিপিএন চালু রাখুন। ফোনের ডেটা এনক্রিপশন চালু রাখুন। গুরুত্বপূর্ণ তথ্যের ব্যাকআপ রাখুন—গুগল ড্রাইভ বা আইক্লাউড ব্যবহার করা যেতে পারে।

ম্যালওয়্যার এখন কেবল বড় প্রতিষ্ঠান বা কম্পিউটার ব্যবহারকারীর সমস্যা নয়। যে কোনো স্মার্টফোন ব্যবহারকারী ঝুঁকির সম্মুখীন হতে পারে। নিয়মিত স্ক্যান, সতর্ক ব্যবহার এবং নিরাপদ অনলাইন অভ্যাস মেনে চললেই ঝুঁকি কমানো সম্ভব। স্মার্টফোন সুরক্ষিত রাখার মূল চাবিকাঠি হলো—সতর্কতা, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং নিরাপদ ব্যবহার।

শেয়ার করুন