এম এ মতিন ( নওগাঁ প্রতিনিধি ):
নওগাঁর মান্দা উপজেলার জোতবাজার এলাকাবাসীর বহু বছরের স্বপ্ন এখন বাস্তবে রূপ নিয়েছে। আত্রাই নদীর ওপর নির্মিত নতুন সেতুটি চালু হওয়ায় বদলে গেছে পুরো অঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা, কর্মজীবন ও অর্থনৈতিক চিত্র। আগে যেখানে খেয়া নৌকার ওপর নির্ভর করতে হতো, সেখানে এখন যেকোনো সময় মানুষ স্বাচ্ছন্দ্যে পারাপার করতে পারছে।
স্থানীয়রা জানান, খেয়া নৌকার জন্য দীর্ঘ অপেক্ষা, নদী পারাপারের ঝুঁকি এবং জরুরি সময়ে বড় ধরনের অসুবিধা ছিল তাদের নিত্যসঙ্গী। কৃষকদের বাজারে ফসল নিতে হতো অতিরিক্ত সময় ও খরচের ব্যয় বহন করে। বিদ্যালয়ে যেতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি ছিল নিয়মিত ঘটনা।
সেতুটি চালুর পর পরিস্থিতি বদলে গেছে নাটকীয়ভাবে। জোতবাজারে এখন যোগাযোগব্যবস্থায় এসেছে গতি—
ব্যবসা-বাণিজ্য বেড়েছে,
স্থানীয় বাজারে মানুষের উপস্থিতি বৃদ্ধি পেয়েছে,
কৃষকের ফসল পরিবহন সহজ ও কম খরচে হচ্ছে,
শিক্ষা, চিকিৎসা ও জরুরি সেবায় পৌঁছানো হয়েছে আগের চেয়ে দ্রুত,
সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় এসেছে দৃশ্যমান উন্নতি।
এলাকাবাসীর ভাষায়, “একটি সেতু আমাদের দৈনন্দিন জীবনের চিত্রই বদলে দিয়েছে। এখন যেন গ্রামজুড়ে নতুন সম্ভাবনার দরজা খুলে গেছে।”
মান্দা উপজেলা প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আবু সায়েদ বলেন, “পল্লী সড়কে গুরুত্বপূর্ণ সেতু নির্মাণ প্রকল্প” এর আওতায় জোতবাজারে আত্রাই নদীর ওপর ২১৭ মিটার দীর্ঘ ও ৯.৮ মিটার প্রস্থের সেতুর নির্মাণকাজ সম্পূর্ণ হয়েছে। অ্যাপ্রোচ সড়কের পিস ঢালাইয়ের কাজ শেষ হলেই পুরো প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত হবে। ইতোমধ্যে মানুষ সেতু দিয়ে নিয়মিত যাতায়াত করছে।”
তিনি আরও জানান, সেতুটি চালু হওয়ায় নওগাঁ সদরের সঙ্গে সহজ সংযোগ তৈরি হয়েছে। পণ্য পরিবহনে ব্যয় কমেছে, সময় বাঁচছে এবং ব্যবসায়ীরা সরাসরি সুফল পাচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মতে, এ ধরনের অবকাঠামো শুধু গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবন সহজ করে না, বরং স্থানীয় অর্থনীতিতে সৃষ্টি করে নতুন সম্ভাবনা।





