বৃহস্পতিবার, ২৫ জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ

ইমরান খানের বোনের ওপর পুলিশি হামলা, আইজির কাছে অভিযোগ

পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের বোন নুরীন নিয়াজি পাঞ্জাবের পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজি) ড. উসমান আনোয়ারের কাছে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছেন। তিনি অভিযোগ করেছেন যে, গত সপ্তাহে রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারের বাইরে পিটিআইয়ের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের ওপর নৃশংস হামলা চালানো হয়েছে। কারাগারের বাইরে ইমরানের বোনেরা পিটিআই সদস্যদের সঙ্গে অবস্থান নিয়েছিলেন।

ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি না দেওয়ায় তারা কারাগারের বাইরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদে অংশ নিয়েছিলেন।

পিটিআই জানিয়েছে, নুরীন, আলিমা খান ও ড. উজমা খান তখন শান্তিপূর্ণভাবে বসে ছিলেন। হঠাৎ পুলিশ তাদের ওপর হামলা চালায়। দলের পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীরা এবং বোনেরা আতঙ্কিত অবস্থায় ছিলেন। আলিমা জানান, “ওই নারী পুলিশরা তাকে রাস্তায় টেনে নিয়ে যাচ্ছিল।” নুরীনের হাত কাঁপছিল।

সোমবার এক্সে দেওয়া একটি পোস্টে পিটিআই জানিয়েছে, নুরীন শান্তিপূর্ণ নাগরিকদের ওপর নৃশংস হামলা ও বেআইনি আটক সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাঞ্জাব আইজির কাছে দাখিল করেছেন।

দুই পাতার চিঠিতে নুরীন উল্লেখ করেছেন, এই সহিংসতা নৃশংস ও পরিকল্পিত ছিল এবং কোনও উসকানি ছাড়াই সংঘটিত হয়েছে। তিনি বলেন, কয়েক সপ্তাহ ধরে তারা ইমরানের সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি থেকে বঞ্চিত ছিলেন। শান্তিপূর্ণ ও গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে তারা প্রতিবাদ করেছেন। তাদের সঙ্গে ছিলেন খাইবার পাখতুনখোয়া মন্ত্রিসভার সদস্যরা, আইনজীবী ও দলের কর্মীরাও।

নুরীন বলেন, “আমরা রাস্তায় অবরোধ সৃষ্টি করিনি, জনসাধারণের চলাচলে বাধা দিইনি, এবং কোনও বেআইনি কাজও করি নি। তবুও, হঠাৎ স্ট্রিটলাইট বন্ধ করে পুরো স্থান অন্ধকারে ঢেকে দিয়ে পুলিশ নৃশংস ও পরিকল্পিত হামলা চালায়। আমাকে চুল ধরে টেনে ওঠানো হয়, মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং রাস্তাজুড়ে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়, যার ফলে দৃশ্যমান আঘাত পাই।”

তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশের আচরণ গত তিন বছর ধরে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে নির্বিচারে শক্তি ব্যবহারের ধারার অংশ, যা উদ্বেগজনক দায়হীনতার পরিচায়ক।

নুরীন পাঞ্জাব পুলিশের আচরণকে ‘অযৌক্তিক, অপরাধমূলক, বেআইনি ও নৈতিকভাবে নিন্দনীয়’ বলে উল্লেখ করে বলেন, এটি একটি গণতান্ত্রিক সমাজে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মৌলিক দায়িত্বের সঙ্গে বিরোধপূর্ণ। তিনি জড়িত পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

২০ নভেম্বর পাকিস্তান মানবাধিকার কমিশন (এইচআরসিপি)ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এবং পিটিআই প্রতিবাদকারীদের ওপর সম্ভাব্য দুর্ব্যবহারের বিষয়ে তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে।

এক্সে দেওয়া পোস্টে এইচআরসিপি জানিয়েছে, বন্দিদের পরিবারের সাক্ষাতের অধিকার এবং শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার জাতীয় ও আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইনে সুরক্ষিত।

সূত্র: ডন


শেয়ার করুন