মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এবং তার ঘনিষ্ঠ সরকারি সহযোগীদের ‘বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন’ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করেছে। এর ফলে সোমবার (২৫ নভেম্বর) থেকে যুক্তরাষ্ট্র ভেনেজুয়েলার বিরুদ্ধে যে কোনো কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে আরও বিস্তৃত ক্ষমতা পেতে যাচ্ছে।
‘কার্টেল দে লস সোলোস’ নামে যাকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে, তা আসলে কোনো প্রচলিত সন্ত্রাসী গ্রুপ নয়। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এটি মূলত ভেনেজুয়েলার সরকারি ও সামরিক কর্মকর্তাদের দুর্নীতিপূর্ণ অনানুষ্ঠানিক নেটওয়ার্ক বোঝাতে ব্যবহৃত একটি টার্ম।
এই ঘোষণা ট্রাম্প প্রশাসনকে মাদুরোর ব্যক্তিগত সম্পদ, অবকাঠামো ও আর্থিক লেনদেনের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের সুযোগ দেবে। তবে এটি সরাসরি সামরিক হামলার অনুমোদন হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে না।
ফলে প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা দাবি করছেন, এমন চিহ্নিতকরণ যুক্তরাষ্ট্রকে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণের আরও ‘বর্ধিত বিকল্প’ তৈরি করে।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, কার্টেল দে লস সোলোস মূলত ভেনেজুয়েলার নিরাপত্তা বাহিনীর মধ্যে থাকা কর্মকর্তাদের বোঝায়, যাদের বিরুদ্ধে মাদক পাচারের অভিযোগ রয়েছে। মাদুরো এসব অভিযোগ সবসময় অস্বীকার করেছেন এবং তার সরকার বারবার জানিয়েছে যে প্রকৃতপক্ষে এমন কোনো কার্টেল নেই।
হোয়াইট হাউজ সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ট্রাম্পকে ভেনেজুয়েলায় সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপের বিভিন্ন বিকল্প সম্পর্কে অবহিত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে সরকারি বা সামরিক স্থাপনায় অভিযান চালানো, বিশেষ অভিযানে আটক করা, অথবা কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার বিকল্প।
তবে সাধারণ মার্কিন জনগণ বেশিরভাগই সম্ভাব্য সামরিক হস্তক্ষেপের বিরোধী। সিবিএস/ইউগভের এক জরিপে দেখা গেছে, ৭০ শতাংশ মার্কিনি ভেনেজুয়েলায় সামরিক পদক্ষেপের পক্ষে নয়, এবং মাত্র ৩০ শতাংশ পক্ষে মত দিয়েছেন। পাশাপাশি ৭৬ শতাংশ উত্তরদাতা মনে করছেন, ট্রাম্প প্রশাসন এখনো স্পষ্টভাবে ব্যাখ্যা করতে পারেনি কেন এমন সামরিক প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।





